সাত বছর প্রেম করে ধোঁকা! প্রেমিকার বাড়ির সামনে ধর্না প্রেমিকের!

193
সাত বছর প্রেম করে ধোঁকা

প্রেমে ধোঁকা খেয়ে এখন ধর্ণায় বসার জন্য সবার মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রায়ই বিভিন্ন মহল থেকে ধর্ণায় বসার খবর আসে, ধুপগুড়ির অনন্ত রায়ের ধর্ণায় খবর পুরো রাজ্যে ছড়িয়ে পড়তেই এটি এখন লেটেস্ট ট্রেন্ডে দাঁড়িয়ে পড়েছে। ধুপগুড়ির ধর্ণার সফলতার কথা মাথায় রেখে কোচবিহার জেলার নাটাবাড়ির চিলাখানায় ধর্ণায় বসলো এক যুবক। ওই যুবকের নাম সঞ্জয় দাস। সে একজন ব্যার্থ প্রেমিক।যদি তার ধর্ণা সফল হয় তাহলে সে অনন্তের সাথে একই সারিতে জায়গা করে নেবে।এবার আসল ঘটনায় আসা যাক।

প্রেমিক সঞ্জয় দাস প্রেমিকার বাড়ির সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ধর্ণায় বসে, প্লাকার্ডে লেখা”আমার 7 বছরের ভালোবাসা ফিরিয়ে দাও”। জানা গিয়েছে ওই প্রেমিকের বাড়ি কালজানির ভেলাকোপা এলাকায় এবং ওই প্রেমিকার বাড়ি চিলাখানায়। ওই প্রেমিকার নাম দিশানি পাল। এরা একে অপরকে ক্লাস টেন থেকে ভালোবাসত, তাদের প্রেম 7 বছর পুরানো। 2010 সাল থেকে তাদের প্রেম পর্ব শুরু হয়, কিন্তু এতদিনের প্রেম ভালোবাসা ছেড়ে ওই প্রেমিকার অন্য জায়গায় বিয়ে ঠিক হবার কথা জানতেই ধর্ণায় বসার পরিকল্পনা করে। প্রেমিক সঞ্জয় তার বন্ধুদের সাথে এসে প্রেমিকার বাড়ির সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ধর্ণায় বসে। সঞ্জয়ের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, দশম শ্রেণী থেকে একে অপরকে ভালোবাসী। একসাথে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছি, কলেজেও একসাথে পড়াশোনা করলেও মাঝপথে কলেজ ছাড়ে প্রেমিক সঞ্জয়, কিন্তু পড়া চালিয়ে যায় প্রেমিকা দিশানি। সঞ্জয় আরো বলে, বাড়িতে অবাধ যাতায়াত ছিলো দিশানির। প্রেমিকের পরিবারের তরফ থেকে সব জানতো, এবং তাদের এই সম্পর্ক মেনে নিয়েছিলো ছেলের বাড়ির লোকজন। কিন্তু দীর্ঘ 7 বছরের ভালোবাসা মেনে নেয়নি প্রেমিকা দিশানির মা।

দিশানির সাথে কথা বলতে বেরিয়ে আসে আসল সত্য, দিশানি প্রেমিক সঞ্জয়কে জানিয়েছে, মেয়ে দিশানি যদি সঞ্জয়কে বিয়ে করে তাহলে তার মা আত্মহত্যা করবে, সেই ভয়ে দিশানি যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় সঞ্জয়ের সাথে, এর ফাঁকে মেয়ের বাড়ি থেকে পাত্র দেখা শুরু হতেই শিলিগুড়ির এক ছেলের সাথে বিয়ের কথা হয়। একথা কানে আসতেই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে সঞ্জয়। কোনো কিছু না ভেবেই প্রেমিকার বাড়ির সামনে ধর্ণায় বসার পরিকল্পনা করে সঞ্জয়। যেমন ভাবা তেমন কাজ, বন্ধুদের সাথে নিয়ে সটান প্রেমিকার বাড়ির সামনে ধর্ণায় বসে পড়ে সে, তাকে পিছন থেকে উৎসাহ দিচ্ছে তার বন্ধুরা। তার ভালোবাসার মানুষটিকে ফিরিয়ে দেবার জন্য ধর্ণায় বসে দিশানির বাড়ির সামনে। সঞ্জয়ের কথা, যদি এতো বছরের পুরনো প্রেম যদি ফিরে না পাই তাহলে সে আত্মহত্যা করবে, সে দিশানির সাথে সুখে সংসার করতে চায়, ধর্ণায় বসার কথা স্থানীয়দের কানে পৌঁছাতেই উৎসুক জনতা ভিড় করে মেয়েটির বাড়ির সামনে। অনেকে তার ধর্ণায় বসার ঘটনাকে সমর্থন করেছে, বন্ধুরা সঞ্জয়কে উৎসাহ জোগাচ্ছে পাশে বসে।

তবে মেয়ের বাড়ির কারো সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এমনকি প্রেমিকা দিশানির কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এখন এটাই লাখ টাকার প্রশ্ন যে সে কি ধুপগুড়ির অনন্ত রায়ের মতো সফল হতে পারবে ?