রাজীব কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ -দেখুন সেই উঠে আসা রহস্য ঘটনা…

593

পশ্চিমবঙ্গের চাঞ্চল্যকর সারদা ও রোজভ্যালি দুর্নীতিকাণ্ডের তথ্য জানার জন্য কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদে সন্তুষ্ট হতে পারেনি সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)। চার দিন ধরে ৩৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাঁকে। আরও তথ্য জানার জন্য আজ বুধবার পঞ্চম দিনেও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে সিবিআই। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে, কলকাতা ও দিল্লি বাদ দিয়ে মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে সিবিআই দপ্তরে রাজীব কুমারকে জেরা করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন ঃ-পাকিস্তানের এক ছাগল ধরতে কয়েক কোটি খরচ করল

সিবিআই শিলংয়ে রাজীব কুমারের মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে সারদা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত এবং সাবেক তৃণমূল সাংসদ কুণাল ঘোষকেও। সারদা কেলেঙ্কারি ফাঁসের পর কুণাল ঘোষকে গ্রেপ্তার করেছিল সিবিআই। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। কুণাল ঘোষকে দুদিন জেরা করে ছেড়ে দেয় সিবিআই। কিন্তু জেরার জন্য আটকে রাখে রাজীব কুমারকে। গতকাল মঙ্গলবার চতুর্থ দিনের জেরা শেষে রাত সাড়ে নয়টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আজ পঞ্চম দিনের মতো জেরার জন্য তাঁকে সিবিআই দপ্তরে হাজির হতে বলা হয়।

সিবিআই সূত্রের উল্লেখ করে সংবাদমাধ্যম জানায়, লাগাতার প্রশ্নের মুখে রাজীব কুমার জানিয়েছেন, কলকাতা পুলিশের গড়া বিশেষ তদন্ত দল সিটের তদন্তে কিছু গাফিলতি ছিল। এর জন্য তিনি তাঁর অধীনস্থ কর্মকর্তাদের দায়ী করে বলেন, তাঁকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। সিবিআই সূত্রে আরও বলা হয়েছে, কুণাল ঘোষ সারদাকাণ্ড নিয়ে যেসব কাগজপত্র ও নথি জমা দিয়েছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে সিবিআইয়ের প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক জবাব দেননি রাজীব কুমার। বরং তিনি বলেছেন, ওই সময়ে তিনি বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার ছিলেন। তাই তাঁকে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে বিধাননগরের পুলিশের কাজে। ফলে, তিনি সিটের কাজের যথাযথ তদারকি করতে পারেননি।

আরো পড়ুন ঃ-নারকেলের জল খেলে স্মৃতিশক্তি বারবে-দেখুন কিভাবে

সিবিআই জানতে চায়, কেন সেদিন সিট সারদা মামলার প্রভাবশালীদের ডেকে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেনি? এই প্রশ্নের জবাবে রাজীব কুমার বলেন, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একটি তালিকা তৈরি করে তিনি তা সিলগালা খামে সুপ্রিম কোর্টে জমা দিয়েছিলেন।এরপরই মামলাটি সিবিআই তদন্তের নির্দেশ পাওয়ায় প্রভাবশালীদের আর ডেকে পাঠানোর সুযোগ হয়নি। রাজীব কুমার সিবিআইয়ের প্রশ্নের জবাবে বলেন, কুণাল ঘোষ যেসব কথা বলেছেন, তা ঠিক নয়। কুণাল ঘোষের নার্কো পরীক্ষার দাবিও জানান রাজীব কুমার। পাশাপাশি কুণাল ঘোষও রাজীব কুমারের নার্কো পরীক্ষার দাবি জানান। পরে কুণাল ঘোষ সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি নার্কো পরীক্ষার জন্য রাজি হলেও রাজি হননি রাজীব কুমার।

কলকাতার সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এখনো সিবিআই সন্তুষ্ট হতে পারেনি রাজীব কুমারের জবাবে। তারা ২৫০ থেকে ৩০০টি প্রশ্নের জবাব পাননি রাজীব কুমারের কাছ থেকে।

এর আগে সারদা ও রোজভ্যালিকাণ্ডের তথ্য জানার জন্য সিবিআই সমন পাঠায় কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে। সমন পেয়ে রাজীব কুমার গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপস্থিত হন শিলংয়ের ওকল্যান্ডের সিবিআই দপ্তরে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কলকাতা পুলিশের দুই কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জাভেদ শামীম এবং উপপুলিশ কমিশনার (এসটিএফ) মুরলী ধর শর্মা। গত চার দিন এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা শিলংয়ের সিবিআই দপ্তরে গেলেও সিবিআই রাজীব কুমারকে জেরা করার সময় তাদের দপ্তরে থাকতে অনুমতি দেয়নি।

আরো পড়ুন ঃ- দিল্লির বিলাসবহুল হোটেলে আগুন – শিশুসহ নিহত ১৭ , আহত

রাজীব কুমার সিবিআইয়ের কাছে গত সোমবার এক লিখিত আবেদনে বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টে সিবিআইয়ের মামলা করার পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ ফেব্রুয়ারি তাঁর হলফনামা দেওয়ার কথা। তাই এ–সংক্রান্ত কাজের জন্য তাঁর কলকাতা যাওয়া জরুরি। এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। এসব কারণে তাঁর কলকাতা যাওয়া দরকার। এ আবেদনে এখন পর্যন্ত সায় দেয়নি সিবিআই।

৩ ফেব্রুয়ারি সিবিআই সারদা ও রোজভ্যালি দুর্নীতিকাণ্ডের তথ্য জানার জন্য রাজীব কুমারের বাড়িতে যেতে গেলে তাতে বাধা দেয় কলকাতা পুলিশ। একপর্যায়ে পুলিশ সিবিআই কর্মকর্তাদের তাঁদের গাড়িতে তুলে নিয়ে আটক রাখে শেক্‌সপিয়ার সরণি থানায়। রাজীব কুমারের বাসভবনে বেআইনিভাবে প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগ তুলে ওই দিন রাতে কলকাতার মেট্রো চ্যানেলে ধরনায় বসেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনার পর সিবিআই রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে। সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ ৫ ফেব্রুয়ারি এক নির্দেশে জানান, সিবিআই রাজীব কুমারকে জেরা করতে পারবে, তবে জেরার সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। আর জেরা হবে শিলংয়ের সিবিআই দপ্তরে। এই নির্দেশের পর ৫ ফেব্রুয়ারি ধরনা তুলে নেন মমতা। ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজীব কুমারের জেরা শুরু হয়।