এই পদ্ধতি গুলি অবলম্বন করতে পারেন গর্ভকালীন সময়ে রূপচর্চার জন্য

291
এই পদ্ধতি গুলি অবলম্বন করতে পারেন গর্ভকালীন সময়ে রূপচর্চার জন্য

গর্ভকালীন সময়ে মায়েদের থাকতে হয় একটু বেশি সচেতন। রুপচর্চার ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। এই সময় মায়েরা ত্বকের যত্নে করতে পারেন নিচের কাজগুলো।

১) গর্ভকালীন সময় শরীর পূর্বের তুলনায় একটু বেশি ভারী হয়ে যায়। যার কারণে শরীরের বিভিন্ন ভাঁজে ভাঁজে ময়লা জমতে পারে। এই সময় সপ্তাহে একদিন কুসুম গরম জল দিয়ে শরীর ম্যাসাজ করে পরিষ্কার করতে পারেন। স্নানের পর তলপেটে এন্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ অলিভ অয়েল আলতো হাতে ম্যাসাজ করুন। এতে পেটের ত্বক সহজে প্রসারিত হবে এবং ত্বকে টান টান থাকবে।

২) ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করতে পারেন ঘরোয়া কোন প্যাক। তা হতে পারে মধু, শসা, গাজরের রস, মেথি গুঁড়ো দিয়ে প্যাক। এটি তৈলাক্ত ত্বকের জন্য বেশ উপকারী। এছাড়া কাঁচা হলুদ, মধু, মুলতানি মাটি, মসুর ডাল দিয়ে তৈরি প্যাক স্বাভাবিক ত্বকের অধিকারীরা ব্যবহার করতে পারেন।

শুষ্ক ত্বকের জন্য কাঠবাদাম পেস্ট, সয়াবিন পাউডার, গাজরের রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে করে ত্বক হবে মসৃণ। প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে নিম এবং চন্দন এক্সট্র্যাক্ট সমৃদ্ধ ফেসওয়াশ দিয়ে মুখে ধুয়ে নিন। এরপর ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নেবেন।

৩) স্ট্রেচ মার্ক:- গর্ভকালীন সময়ে ত্বকে খুব সাধারণ একটি সমস্যা হল স্ট্রেচ মার্ক। এই সমস্যা থেকে মুক্তি দেবে অ্যালোভেরা জেল। স্ট্রেচ মার্কের স্থানে অ্যালোভেরা জেল ম্যাসাজ করে লাগান। এছাড়া ত্বক ময়েশ্চারাইজ করার প্রয়োজন রয়েছে। সাধারণ ময়েশ্চারাইজ ব্যবহার করার পরিবর্তে তিলের তেল, নারিকেল তেল ও ক্যাস্টর ওয়েল ব্যবহার করা ভাল।

৪) কালো দাগ:- অনেক সময় ত্বকে কালো বা বাদামি রঙের মেছতা দেখা যায়। যা অবহেলা করলে স্থায়ীভাবে বসে যেতে পারে। ত্বকের কালো দাগ দূর করতে ব্যবহার করতে পারেন পেঁপের প্যাক। ১/২ কাপ পাকা পেঁপের পেস্ট, ১ চা চামচ লেবুর রস, ১ চা চামচ মধু এবং ১/৪ কাপ টকদই মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে নিন।

এটি ত্বকে লাগিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। ৩০ মিনিট পর কুসুম গরম জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এছাড়া আলুর রস যেকোন কালো দাগ মেছতার দাগ দূরে বেশ কার্যকরী। আলুর দুটি টুকরো করে নিন। এবার এটি ত্বকের কালো দাগের স্থানে ম্যাসাজ করুন। এটি প্রতিদিন ব্যবহার করুন।

এছাড়া প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ জল পান করুন। জল শরীর থেকে ক্ষতিকর পর্দাথ বের করে দিবে। গর্ভকালীন সময় স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া উচিত। চিকিৎসকের দেওয়া ডায়েট চার্ট সঠিকভাবে অনুসরণ করুন।

এইসময় মায়েদের ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করা উচিত। সিনথেটিক কাপড় ব্যবহার না করে সুতি কাপড় ব্যবহার করা উত্তম। রাতে অব্যশই ঢিলেঢালা নরম কাপড় ঘুমানো উচিত, এতে ঘুম ভাল হয়। গর্ভাবস্থায় উঁচু হিলের জুতা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। নরম আরামদায়ক জুতা পরিধান করা উচিত। গর্ভকালীন সময়টি স্পর্শকাতর সময়। এই সময় প্রতিটি নারীকে থাকতে হয় একটু বেশি সচেতন। কেননা এইসময়ের একটি ছোট ভুল হতে পারে সারা জীবনের কান্নার কারণ।