বাচ্চাদের ঘুম থেকে ওঠানোর কিছু সহজ পদ্ধতি

445
বাচ্চাদের ঘুম থেকে ওঠানোর কিছু সহজ পদ্ধতি

স্কুলে যাওয়ার জন্য সকালে বাচ্চাদের ঘুম থেকে ওঠানো বেশ ঝক্কির কাজ। কিছুতেই তারা ঘুম থেকে উঠতে চায় না। এর জন্য বাবা-মা একেকজন একেক পদ্ধতি ব্যবহার করেন। গবেষণায় দেখা যায়, সকালে ঘুম থেকে দেরি করে ওঠাটা আসলে অলসতা নয়। বরং অনেক বিষয়ই এর সঙ্গে জড়িত। প্রতিটি মানুষের শরীরে জন্ম থেকেই একটি ঘড়ি থাকে। এর ওপর নির্ভর করে সে সকালে ঘুম থেকে দ্রুত উঠবে নাকি দেরি করবে। এ কারণে বাচ্চাকে সকালে ঘুম থেকে ওঠানোর জন্য দরকার একটি পরিকল্পনা। কোনোরকম নাটকীয়তা বা কান্নাকাটি ছাড়াই বাচ্চাকে ঘুম থেকে ওঠানোর জন্য ব্যবহার করতে পারেন এই উপায়গুলো……………..

১) বাচ্চাকে বুঝুন:- কোনো শিশু সকালে দ্রুত ঘুম থেকে উঠে পড়ে। কেউ আবার দেরি করে উঠতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। আপনার শিশু কেমন, তা বুঝুন এবং তা মেনে নিয়েই সকালের রুটিন ঠিক করুন।

২) বাচ্চা যথেষ্ট ঘুমাচ্ছে তো:– বড়দের তুলনায় বাচ্চাদের বেশি ঘুম দরকার হয় (অন্তত ১০ ঘণ্টা)। এ কারণে তাদেরকে রাত্রে দ্রুত ঘুম পাড়াতে হবে। তাহলেই সকাল সকাল বাচ্চাকে ঘুম থেকে ওঠাতে পারবেন আপনি। এছাড়া ঘুমাতে যাওয়ার আগে ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার, ঘরে বেশি আলো, খাওয়া-দাওয়া এসব শিশুর ঘুমকে প্রভাবিত করে। ভেবে দেখুন এসবের কারণে তার ঘুম কম হচ্ছে কি না।

৩) কিছু সময় বিছানায় থাকতে দিন:- বাচ্চার ঘুম ভাঙানোর পরেও তাকে কিছু সময় বিছানায় গড়াগড়ি করতে দিন। এতে ঘুম পুরোপুরি কেটে যাবে এবং তাকে বিছানা থেকে ওঠানো সহজ হবে।

৪) বাচ্চাকে বকাবকি করবেন না:- বাচ্চা ঘুম থেকে উঠতে না চাইলে অনেকেই রাগ করে তাকে বকাবকি করতে থাকেন। এতে দুটি ক্ষতি হয়। সে রাগ করে বিছানাতেই পড়ে থাকে। আর দিনের পর দিন বকা শুনতে শুনতে একসময় সে অভ্যস্ত হয়ে যায়।

৫) গান শুনিয়ে ঘুম থেকে ওঠান:- আপনার গানের গলা ভালো হোক বা খারাপ, গান গেয়ে বাচ্চাকে ঘুম থেকে ওঠাতে পারেন। অ্যালার্মের চেয়ে তা বেশি কার্যকরী। বাচ্চাকে গান গেয়ে ঘুম পাড়ানোর মতোই গান গেয়ে ঘুম থেকে তুলতে পারেন আপনি। নিজে গান গাইতে না চাইলে তার প্রিয় গানটা মোবাইল বা ল্যাপটপে চালিয়ে দিতে পারেন বা তার প্রিয় কার্টুন চালিয়ে দিতে পারেন। এতেও সে ঘুম থেকে উঠে পড়বে।

৬) মজাদার সুবাসের কোনো খাবার রান্না করুন:- বাচ্চার প্রিয় খাবারটি রান্না বা বেক করতে পারেন। খাবারের মজাদার সুবাসে সে ঘুম থেকে উঠে পড়বে এবং তাকে বিছানা থেকে ওঠানো সহজ হবে।

৭) ঘরের কাজ করুন:- রান্না, কাপড় ধোয়া, ঘর মোছা বা ভ্যাকুয়াম, এসব কাজ সকালেই করুন। এসবের শব্দে বাচ্চার ঘুম কেটে যাবে। সময়মতো তাকে বিছানা থেকে ওঠাতে পারবেন।

৮) তাকে একটি অ্যালার্ম ঘড়ি দিন:- অনেক বাড়িতে সবাই একটিই অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার করে অথবা যে যার ফোনে অ্যালার্ম দিয়ে রাখে। বাচ্চাকে একটি সুন্দর অ্যালার্ম ঘড়ি কিনে দিন এবং তা কী করে ব্যবহার করতে হয় তা শিখিয়ে দিন। এতে সে সকালে অ্যালার্মের শব্দে ঘুম থেকে উঠতে উৎসাহ পাবে।

৯) সকালের জরুরি সবকিছু রাতেই গুছিয়ে রাখুন:- সকালে উঠে স্কুলে যাওয়ার সময় বই পাওয়া যাচ্ছে না, দুটো মোজার একটি নেই, পরিষ্কার রুমাল নেই—এসব সমস্যায় পড়েন অনেকেই। এসব জিনিস আগের রাতেই গুছিয়ে রাখলে বাচ্চা সকালে চটপট রেডি হতে পারে। এতে তার সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার উৎসাহও বাড়ে।

১০) রোদ আসে এমন ঘরে বাচ্চাকে রাখুন:- অ্যাপার্টমেন্টের অনেক ঘরই এমন হয় যেখানে তেমন একটা আলো-বাতাস আসে না। তেমন ঘরে বাচ্চাকে রাখবেন না। তার ঘরে যেন জানালা দিয়ে বেশ আলো আসে তার দিকে খেয়াল রাখুন। সকালের আলোতেই তার ঘুম ভাঙবে সহজে।

১১) কিছু সময় টিভি দেখতে দিন:- বাচ্চা যদি সকালে ঘুম থেকে উঠে চটপট রেডি হয়ে যায়, তাহলে তাকে কয়েক মিনিট টিভি দেখতে দিন। এই পুরস্কারের উৎসাহে সে ঘুম থেকে উঠে পড়বে।

১২) দেরি হওয়ার ফল ভোগ করতে দিন:– ঘুম থেকে দেরি করে উঠলে যে তার স্কুলে যেতে দেরি হবে, এ ব্যাপারটি বাচ্চাকে বুঝতে দিন। সে ঘুম থেকে কোনোদিন দেরি করে উঠলে হয়তো ব্রেকফাস্টে মজার খাবার খেতে পারবে না অথবা স্কুল বা গানের ক্লাসে যেতে দেরি হবে। এসব ফলাফল ভোগ করলে সে নিজেই বুঝে যাবে সকালে ঘুম থেকে ওঠাটা জরুরি।