ঘরে বসেই ত্বককে চকচকে করুন এই উপায়ে…

305
ঘরে বসেই ত্বককে চকচকে করুন এই উপায়ে...

প্রাচীনকাল থেকে সৌন্দর্য চর্চার জন্য এমন কিছু সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে, যা আজও সমানতালে জনপ্রিয়। চলুন জেনে নেয়া যাক প্রাচীনকালের রূপচর্চার সেই সামগ্রীগুলো যা আজও ব্যবহৃত হচ্ছে।

মধু:- সৌন্দর্যের জন্য আগেকার দিনে মানুষেরা মধু ব্যবহার করতেন। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদানটি সহজপ্রাপ্য ছিল। ময়েশ্চারাইজিং বৈশিষ্ট্য মধুতে পাওয়া যায়। মুখের জন্য মধু ফেস মাস্ক হিসাবে ব্যবহার করা হয়। মধুতে আছে অ্যান্টিফাঙ্গাল এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান, যা ত্বকের লালচেভাব ও জ্বালাপোড়া কমিয়ে ব্রণের হাত থেকে রক্ষা করে।

গোলাপ জল:-পবিত্রতা ও সৌন্দর্যের অন্যতম উপাদান হিসেবে প্রাচীনকাল থেকে এটি ব্যবহার হয়ে আসছে। ত্বকের সুরক্ষায় এটি কার্যকরী। অতীতে নারীরা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এটি ব্যবহার করতো। এমনকি আজও এই প্রবণতা অব্যাহত।

পুদিনা পাতা:- পুদিনার ব্যবহারের ও দীর্ঘ ইতিহাস আছে। প্রাচীনকালে, চীনা নারীরা সৌন্দর্যের জন্য পুদিনা ব্যবহার করতো। এর জন্য পুদিনার রস চামড়ার উপর আলতো করে ঘষতে হয়। আজও পুদিনার ব্যবহার একইভাবেই করা হয়। পুদিনা চেহারাকে সতেজ করে তোলে।

সামুদ্রিক লবণ:- মৃত চামড়া অপসারণ করার জন্য নারীরা সামুদ্রিক লবণ ব্যবহার করতেন। আজকের নারীরাও এটির ব্যবহার করে। সামুদ্রিক লবণে আছে উচ্চ মাত্রার পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালশিয়ামসহ অনেক উপাদান, যা ত্বককে পুনর্জীবিত করতে সাহায্য করে।

চিনি:- হাত-পায়ের লোম অপসারণের জন্য চিনি একটি কার্যকরী উপাদান। প্রাচীনকালের নারীরা, লোম তুলতে চিনি ব্যবহার করতো। লোম অপসারণের এই চিকিৎসা প্রাচীন মিশর থেকে শুরু। এটি ওয়াক্সিং-এর মতো। তবে ওয়াক্সিং-এর মতো এটিতে ব্যথা নেই। এটিকে সুগারিং বলা হয়। রেজার ব্যবহার ক্ষতিকর জেনেও নানা ব্যস্ততারভারে আজ আমরা এটিকেই বেশি ব্যবহার করি। উত্তর আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও গ্রীসে লোমতোলার পদ্ধতি হিসেবে সুগারিং ব্যবহার আজও জনপ্রিয়। কারণ এর জন্য, চিনি, লবণ, জল এবং কাঠের লাঠি ব্যবহার করা হয়।

নিম পাতা:- এখনকার মতো এত গ্লামারাস রূপচর্চা সামগ্রী প্রাচীন কালে ছিল না। সেসময় অন্যান্য উপাদানের সঙ্গে নিম পাতার ব্যবহার ছিল প্রচুর। শরীর ও ত্বককে মসৃণ ও জীবাণুমুক্ত করতে এর পেস্ট ব্যবহার করা যায়। ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করতে প্রাচীনকালের এই উপকরণটি আজও ব্যবহার করা হচ্ছে।

নারকেল তেল:- এশিয়া অঞ্চলে চামড়া ও চুলের যত্নে প্রাচীনকাল থেকে নারকেল তেল ব্যবহার হয়ে আসছে। যা আজও চলমান। নারকেল তেল শুষ্ক প্রাণহীন ত্বককে কোমল ও প্রাণবন্ত করে তোলে।

জেড রোলার:- জেড একটি পাথর। জেড রোলার স্বচ্ছ এবং সবুজ রঙের পাথর। এটি শরীরের মধ্যে ঘোরানো হয়, যা ভালো ম্যাসাজ করে। প্রাচীন চীনে রক্ত সঞ্চালনকে সংশোধন করা এবং টক্সিন অপসারণ করতে এটা ব্যবহার করা হয়। শক্ত চামড়া এবং বলিরেখা অপসারণের জন্য এর ব্যবহার বেশ কার্যকরী।

লেবু:- প্রাচীন মিশর ও গ্রিসের রাজকুমারীদের কাছে লেবুর সমাদর ছিল। এটি ছিল তাদের রূপচর্চার বিশেষ উপাদান। একসময় চিন দেশে লেবুকে মেয়েদের রূপচর্চার জন্য বিশেষ উপকারি হিসেবে অভিহিত করা হতো।

কাঁচা হলুদ:- প্রাচীনকাল থেকে রূপচর্চার উপাদান হিসেবে কাঁচা হলুদ অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এর ব্যবহারে ব্রণ, চেহারার ভাজ, মুখে দাগ, তৈলাক্ত ভাব অপসারণ হয়। এটি ত্বককে উজ্জ্বল ও লাবণ্যময়ী করে তোলে।

মশুর ডাল:- সৌর্ন্দয্যর্চচার জন্য হাতের নাগালে পাওয়া এই উপাদানটি আপনাকে সুন্দর ও মসৃণ ত্বকের অধিকারী করতে পারে। মসুর ডালের প্যাক নিয়মিত ব্যবহার করলে অতি সহজেই আপনার মুখের কালো ছাপ দূর হয়ে যাবে। এতে প্রোটিন এবং ভিটামিন রয়েছে। ফেস মাস্ক হিসেবে এর ব্যবহার বেশ কার্যকরী।