কাঁচা খাচ্ছেন এই খাবার গুলি,জেনে নিন আপনার সমূহ বিপদ

246
কাঁচা খাচ্ছেন এই খাবার গুলি,জেনে নিন আপনার সমূহ বিপদ

আলু- আলু অবশ্য কাঁচা খাওয়ার জিনিস না। যদি শখ করেও কাঁচা খেতে ইচ্ছে করে, তবে সে শখ সংবরণ করাটাই মঙ্গল। কারণ কাঁচা আলুতে যে শ্বেতসার থাকে, তা হজমের সমস্যা, গ্যাস, পেটফোলা ইত্যাদি রোগের সৃষ্টি করে। পুষ্টিবিদদের মতে, আলু থেকে যদি সর্বোচ্চ পুষ্টি পেতে চান, তবে সেটা বেক বা ভাপিয়ে খান। আর সবুজ আলু থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকুন। এতে সোলানাইন নামের এক ধরনের বিষাক্ত পদার্থ থাকে, যার সামান্য পেটে গেলেও তা মাথাব্যথা, মাথা ঘোরানোর কারণ হতে পারে।

বাদাম- কাঁচা কাজু বাদাম শুনে অনেকেই ভাববেন আমরা তো কতই খাই। কিন্তু আমরা যে কাঁচা কাজু বাদাম খাই সেটা আসলে প্রসেসড। একদম কাঁচা নয়। একদম কাঁচা খেলে মৃত্যু হতে পারে।

রাজমা- রাজমা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। কিন্তু কাঁচা রাজমা মারাত্মক ক্ষতিকর। কাঁচা রাজমায় সায়ানেইড থাকে। একটু চিবালেই হাইড্রোজেন সায়ানেইড তৈরি হয় যার সামান্য একটু অংশও বিপজ্জনক।

আমন্ড- আমরা সাধারণত যে আমন্ড খেয়ে থাকি সেটা মিষ্টি। এছাড়াও একটি তেতো আমন্ড পাওয়া যায় যা থেকে তেল উৎপাদন করা হয়। কিছু কিছু রান্নার ক্ষেত্রেও ওই আমন্ড ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে রান্না না করে কাঁচা খেলে তা মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। যাতে মৃত্যুও ঘটতে পারে।

লাল কিডনি বিন- শিমের বিচি ধরনের এ খাবারগুলো আপনার রোজকার খাবারতালিকায় পুষ্টির মাত্রাটা অনেকটা বাড়িয়ে দেয়। তবে কাঁচা কিডনি বিন খেলে পরে ভয়ঙ্কর রকম মাথাঘোরা, বমি এমনকি ডায়রিয়া পর্যন্ত হতে পারে। তাই লাল কিডনি বিন কিনে আনার পর কমপক্ষে ৫ ঘণ্টা জলে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর সে জল ফেলে দিয়ে নতুন করে জল নিয়ে আধা ঘণ্টামতো বিনগুলো সিদ্ধ করুন। এবার আপনার কিডনি বিন খাবার জন্য তৈরি হয়ে গেল।

স্প্রাউট- সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার হিসেবে স্প্রাউটের জুড়ি নেই। কিন্তু কাঁচা অবস্থায় স্প্রাউট হচ্ছে স্যালমোনেলা, ই. কোলি, লিস্টিরিয়া ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়ার আড্ডাখানা। তাই বাজার থেকে স্প্রাউট কিনে খুব ভালো করে ধুয়ে নেয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। আর ছোট শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক লোকজন এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের জন্য স্প্রাউট এড়িয়ে চলাই ভালো।

মধু- চাকভাঙা মধুর স্বাদ পেতে আগ্রহী থাকেন অনেকেই। তবে পাস্তুরিত না হওয়া কাঁচা মধুতে গ্রায়ানোটক্সিন বলে এক ধরনের বিষাক্ত উপাদান থাকে। যদিও এ উপাদান প্রাণঘাতী নয়, তবু এর প্রভাবে মাথা ঝিম-ঝিম, রক্তের নিম্নচাপ এবং স্নায়বিক বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই বিশেষ করে শিশুদের কখনই কাঁচা মধু খাওয়াবেন না।

দুধ- অনেকে বিশ্বাস করেন কাঁচা দুধ খেলে পরে কিছু কিছু রোগের হাত থেকে নিস্তার পাওয়া যায়। তবে এক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে, কাঁচা দুধ পাস্তুরিত হয় না। পাস্তুরায়ন প্রক্রিয়ায় দুধকে ১৫ সেকেন্ডেরও কম সময় ধরে ১৬১ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় নিয়ে তারপর দ্রুত ঠাণ্ডা করে ফেলা হয়। ফলে কাঁচা দুধে স্যালমোনেলা, ই. কোলি, লিস্টিরিয়া ইত্যাদি যেসব ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকে, তার সবই মারা পড়ে। তাই পাস্তুরিত না হওয়া দুধ খাওয়া ঠিক না।

এছাড়া ফুলকপি, ব্রোকলি, বাঁধাকপি এ-জাতীয় সবজিতে সহজে হজম হয় না। তাই এগুলো কাঁচা খেয়ে হজম করা সবার পক্ষে সম্ভব না। ফলে এ ধরনের সবজি রান্না করে খান।