সাবধান! ব্যবহার করছেন মশার কয়েল ? দেখে নিন আপনার কি পরিমান ক্ষতি হচ্ছে

455
সাবধান! ব্যবহার করছেন মশার কয়েল ? দেখে নিন আপনার কি পরিমান ক্ষতি হচ্ছে

মশার কয়েল ব্যবহার করছেন? পরীক্ষা করে দেখা গেছে, কয়েলে ক্ষতিকর উচ্চমাত্রার রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষণায় কয়েলের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিওএইচও) নির্ধারিত সর্বোচ্চ দশমিক শূন্য ৩ মাত্রার (এই মাত্রা মশা তাড়াতে কার্যকর, কিন্তু মরবে না) অধিক সক্রিয় রাসায়নিক উপাদান (অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট) পাওয়া গেছে। এসব কয়েলের ধোঁয়ায় মশা, তেলাপোকাসহ কীটপতঙ্গ মারা পড়ছে। অথচ কয়েল কোম্পানিগুলোর মোড়কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) অনুমোদিত মাত্রারই উল্লেখ আছে।

মালয়েশিয়ার চেস্ট রিসার্চ ফাউন্ডেশনের গবেষণায় দেখা গেছে, একটা মশার কয়েল থেকে যে পরিমাণ ধোঁয়া বের হয় তা একশ’টা সিগারেটের সমান ক্ষতিকর। অনেকেই জানেই না একটা মশার কয়েল একশ’টা সিগারেটের সমান ফুসফুসে ক্ষতি করছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এসব কয়েল ব্যবহারের ফলে ক্যানসার, শ্বাসনালিতে প্রদাহসহ বিকলাঙ্গতার মতো ভয়াবহ রোগ, এমনকি গর্ভের শিশুর ক্ষতি হতে পারে। লিভার-কিডনি বিকল হওয়া, ত্বকে চুলকানি, অ্যালার্জিসহ নানা চর্মরোগ হতে পারে।

এছাড়াও অনেক সময় দেখা যায় কয়েলের ধোঁয়ায় অনেকের চোখ জ্বালা করে। এটা চোখের জন্য মারাত্নক ক্ষতিকর। এর কারণ হল কয়েলে এক ধরণের কেমিক্যাল ব্যবহৃত হয় যার নাম pyrethrum। চোখ জ্বালা করা ছাড়াও বমিভাব, মাথাব্যথাও করতে দেখা যায়।

মশার কয়েল তৈরীতে কিছু কিছু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিকর কেমিক্যাল S-2 ব্যবহার করেন যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি ফুসফুসের ক্যানসার সৃষ্টিকারী। এটির কারণেই অনেকের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।

এবার ভেবে দেখুন, মশা মারতে গিয়ে কীভাবে নিজের অজান্তেই মুত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছেন ধীরে ধীরে। তাই মশার কয়েল ব্যবহারে সাবধানী হোন। যদি ব্যবহার করতেই হয় তবে বদ্ধ ঘরে নয়, বরং প্রচুর বাতাস চলাচল করে এমন ঘরে কয়েল রাখা শ্রেয়। দরজা জানলা বদ্ধ থাকলে খুলে দিন।