শরীরে জল জমার কারণ ও প্রতিকার….. দেখে নিন এক নজরে

437
শরীরে জল জমার কারণ ও প্রতিকার..... দেখে নিন এক নজরে

নানা কারণে শরীরে জল জমতে পারে। ফুলে যেতে পারে পা, হাত, মুখমণ্ডল। শরীরে জল জমে যাওয়ার জন্য সব সময় ওষুধ প্রয়োজন হয় না। বরং শরীরের জল কমানোর জন্য যে ওষুধগুলো সেবন করা হয় সেগুলোই জল জমার ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে। সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে জীবন যাপনের পরিবর্তন করা। শরীরে জল জমাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এডিমা বলে। হায়দ্রাবাদের ইন্সটিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সের সিনিয়র কনসালটেন্ট নিউরোলজিস্ট ডা. সুধীর কুমার পরামর্শ দিয়েছেন এ ব্যাপারে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক শরীরে জল জমার কারণ ও এর প্রতিকার…….

১) দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে:- অনেক বেশি সময় ধরে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকলে রক্ত সংবহন কমে যাওয়ার ফলে শরীরে জল জমতে পারে। এটি প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হচ্ছে শারীরিক সক্রিয়তা। একাধারে অনেকক্ষণ বসে বা দাঁড়িয়ে না থেকে হাঁটাহাঁটি করুন। প্রতি ২-৩ ঘন্টার মধ্যে ওয়াশরুমে ঘুরে আসুন।

২) পর্যাপ্ত জল পান না করা:- শরীরে জল আসার আরেকটি সাধারণ কারণ হচ্ছে কম জল পান করা। শরীরে জলের পরিমাণ কমে গেলে ইলেক্ট্রোলাইটের লেভেল বৃদ্ধি পায়। যার ফলে শরীরে জল জমে। এর অর্থ এই নয় যে আপনি মাত্রাতিরিক্ত জল পান করবেন। এর ফলে উল্টো প্রতিক্রিয়াও হতে পারে। দিনে ৩-৪ লিটার জল পান করাই যথেষ্ট।

৩) স্বাস্থ্য সমস্যা:- কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন- কিডনি রোগ, হৃদরোগ, লিভার ইনফেকশন অথবা ব্রেইন টিউমারের কারণেও এডিমা হতে পারে। আপনার যদি এই ধরণের কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকে তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

৪) ওষুধ:- কিছু ওষুধের প্রতিক্রিয়াতেও শরীরে জল জমতে পারে। যেমন- হাই ব্লাড প্রেশারের ওষুধ এম্লোডিপিন সেবনের ফলে জল আসতে পারে শরীরে। এছাড়াও নন স্ট্যারয়ডাল অ্যান্টিইনফ্লামেটরি ওষুধ,  কর্টিকোস্ট্যারয়েডস এবং বার্থ কন্ট্রোল পিল এডিমা সৃষ্টিতে অবদান রাখে। তবে যেকোন ওষুধ বাদ দেয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

৫) বেশি লবণ খাওয়া:- শরীরে জল জমার আরেকটি কারণ হচ্ছে অত্যধিক লবণ খাওয়া। সোডিয়াম জলকে আবদ্ধ করে ফেলে এবং শরীরের কোষের ভেতরের ও বাহিরের তরলের মাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে। উচ্চমাত্রার সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন- প্রসেসড ফুড খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। খাবারের সাথে বাড়তি লবণ গ্রহণের অভ্যাস বদলে ফেলুন।

আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ উপাদান হচ্ছে ম্যাগনেসিয়াম। শরীরের অতিরিক্ত জল জমার সমস্যাটি কমানো যায় ম্যাগনেসিয়াম গ্রহণের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে। গবেষণায় জানা যায় যে, দৈনিক ২০০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম গ্রহণ করলে মেয়েদের শরীরে জল আসার সমস্যা কমে। বাদাম, ডার্ক চকলেট, হোল গ্রেইন ও সবুজ শাকসবজিতে ম্যাগনেসিয়াম থাকে।