সুস্থ থাকতে বয়সের সঙ্গে অবশ্যই করে নিন এই পরীক্ষাগুলি….না হলেই বিপদ

522
সুস্থ থাকতে বয়সের সঙ্গে অবশ্যই করে নিন এই পরীক্ষাগুলি....না হলেই বিপদ

বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে নানা রোগ-ব্যাধি বাসা বাঁধতে শুরু করে। আর রোগ-ব্যাধি সব সময় বলে-কয়ে আসে না। তাই বেশির ভাগ সময় রোগের জটিল পর্যায়ে মানুষ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়। কিন্তু রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক রোগ শনাক্ত করে যথাযথ চিকিৎসা নিলে মারাত্মক সব জটিলতা এড়ানো সম্ভব। প্রাথমিক অবস্থায় রোগ শনাক্ত করতে যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়, তাকে স্ক্রিনিং টেস্ট বলে।

চলুন জেনে নিই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কী কী স্ক্রিনিং টেস্ট করা জরুরি……………

লিপিড প্রোফাইল:- উচ্চমাত্রার ক্ষতিকর কোলেস্টেরল ধমনির গায়ে জমে হৃদ্‌রোগ আর স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই বয়স ৩৫-এর বেশি হলে বছরে অন্তত একবার লিপিড প্রোফাইল করতে হবে। হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস থাকলে বা এগুলোর পারিবারিক ইতিহাস থাকলে তা আরও নিয়মিত করতে হবে।

ক্যানসার স্ক্রিনিং:- ক্যানসারজনিত মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ কোলোরেক্টাল ক্যানসার। উপসর্গবিহীন এই রোগ একবারে শেষ পর্যায়ে ধরা পড়ে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শে এ বিষয়ে পরীক্ষা করতে হবে। তা ছাড়া চল্লিশের পর প্রত্যেক পুরুষের প্রোস্টেট ক্যানসার এবং নারীদের জরায়ু মুখের ক্যানসারের পরীক্ষা করাতে হবে।

উচ্চ রক্তচাপ:- উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে যেকোনো বয়সেই। তবে চল্লিশের পর আশঙ্কা বেশি। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ থেকে হার্ট ফেইলিওর, স্ট্রোক, কিডনি জটিলতা হতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করতে হবে।

রক্তের শর্করা:- রক্তের শর্করার পরিমাণ বাড়লে ডায়াবেটিস হয়। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক, কিডনি জটিলতা, অন্ধত্বসহ নানা ধরনের জটিলতার জন্য দায়ী। প্রাথমিক অবস্থায় ডায়াবেটিস শনাক্ত ও জটিলতা এড়াতে চল্লিশের পর সবার উচিত রক্তের শর্করা বা গ্লুকোজের মাত্রা পরিমাপ করা।

চক্ষু পরীক্ষা:- চল্লিশের পর সাধারণত দৃষ্টিশক্তি কমতে থাকে। পড়তে শুরু করে চোখের ছানি। গ্লুকোমা হলে চোখের অপটিক নার্ভ ধীর ধীরে নষ্ট হয়ে দৃষ্টিহীনতা দেখা দেয়। তাই চল্লিশের পর অবশ্যই বছরে একবার চক্ষু পরীক্ষা করা জরুরি।

হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা:- হাড়ের ঘনত্ব কমে গিয়ে অস্টিওপোরেসিস হলে হাড় ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। বয়স চল্লিশ পার হলে এই রোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা করাতে হবে।