ফ্যাটি লিভার হলে কি খাওয়া উচিত নয়… জেনে নিন

394
ফ্যাটি লিভার হলে কি খাওয়া উচিত নয়... জেনে নিন

লিভার রোগ মানেই যেন আতকে উঠা। অন্য কোন রোগে যেমন-তেমন, লিভারের অসুখ হয়েছে মনে করলেই মনে নানা অজানা আশঙ্কার সৃষ্টি হয়। আর চারপাশের সবাই হয়ে উঠেন এক একজন লিভার বিশেষজ্ঞ। এটা করতে হবে, ওটা করা যাবেন না, এজাতীয় পরামর্শ আসতে থাকে ক্রমাগত। বিশেষ করে কি খেতে হবে আর কি খাওয়া যাবে না এই নিয়ে পরামর্শের যেন শেষ থাকেনা। লিভার রোগীরা তাদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে খুবই বিভ্রান্তিতে থাকেন।

বিশেষ করে লিভার বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলতে গিয়ে তাদের বিভ্রান্তি অনেক ক্ষেত্রেই বেড়ে যায়। কারণ লিভার রোগীর পথ্যের ব্যাপারে আমাদের যে প্রচলিত বিশ্বাস তা অনেক ক্ষেত্রেই আধুনিক চিকিত্সা বিজ্ঞানের সাথে একেবারের মিল থাকেনা। তাই ফ্যাটি লিভারের কি খাওয়া যাবে কি খাওয়া যাবে না সেই দিক নিয়েই আজকের এই লেখা। ফ্যাটি লিভার পৃথিবীর অনেক দেশের মত আমাদের দেশেও খুবই কমন একটি রোগ। আক্ষরিক অর্থেই এই রোগে লিভারে চর্বি জমতে থাকে যা থেকে কারো কারো লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যান্সারও হতে পারে।

আজকাল আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে গিয়ে আমরা জানতে পারি আমাদের ফ্যাটি লিভার আছে বা লিভারে চর্বি জমেছে। যেমনটি বুঝা যাচ্ছে মেদ ভুড়ি এই রোগের অন্যতম কারণ। পাশাপাশি ডায়াবেটিস, হাইব্লাডপ্রেসার, ডিজলিপিডেমিয়া বা রক্ত চর্বি বেশী থাকা ইত্যাদি ফ্যাটি লিভার রোগের অন্যতম কারণ। আর তাই ফ্যাটি লিভারের চিকিত্সার প্রধান দিকটাই হচ্ছে লাইফ-স্টাইল মডিফিকেশন বা নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম করা এবং পাশাপাশি খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকা।

এই রোগে রেড মিট যেমন খাসির মাংস, ডিমের কুসুম, চিংড়ি মাছ, পনির, মাখন, বিরিয়ানী ইত্যাদি হাই-ফ্যাট খাবার পরিহার করতে হবে তাই নয়, পাশাপাশি অতিরিক্ত শর্করা যেমন ভাতের ব্যাপারেও খুব সাবধান হতে হবে। কারণ অতিরিক্ত শর্করাযুক্ত খাবার খেলে তা লিভারে যেয়ে চর্বি হিসাবেই জমা হতে থাকে। একই ভাবে সাবধান থাকতে হবে ফাস্টফুড এবং জাঙ্ক ফুডের ব্যাপারেও।

পাশ্চাত্যের মতো ফাস্টফুড কালচারের ব্যাপক প্রসারের ফলে এদেশেও এখন বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে ফ্যাটি লিভারের প্রাদুর্ভাব খুব বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সত্যি বলতে কি, হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের পর ফ্যাটি লিভারই এখন এদেশে ক্রনিক লিভার ডিজিজের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত রোগীদের হার্ট ডিজিজ বা ব্রেণ স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও অনেক ক্ষেত্রে বেশী থাকে।