কাঁটা মাথাদের তাণ্ডব চলে রাতের অন্ধকারে এই মিনারে

295
কাঁটা মাথাদের তাণ্ডব চলে রাতের অন্ধকারে এই মিনারে

আজকের দিল্লির পরিস্থিতিটা কয়েক দশক আগেই সম্পূর্ণ আলাদা ছিল,বিশেষ করে স্বাধীনতার পূর্বে দিল্লি যখন শাসকদের অত্যাচারে নিপীড়িত তখন গোটা দিল্লির চালচিত্রের সঙ্গে আজকের স্বাধীনতাওোর ভারতের রাজধানীর কোনও মিলই পাওয়া যায় না। রক্তে ভেসে গিয়েছিল দেশের রাজপথ, আর রাজপথ রক্তে রাঙিয়ে দেওয়া সেই সমস্ত মানুষদের অতৃপ্ত আত্মা আজও দিল্লির আর আছে কানাচে বর্তমান।

কথিত আছে দিল্লির বিভিন্ন মিনারে বাসা বেঁধে আছে সেই সমস্ত মানুষের অতৃপ্ত আত্মা আর তারাই উত্পাত চালায়। তেমনই এক মিনারের নিদর্শন হলেও দিল্লির চোর মিনার। যা কাটা মাথা মিনার নামেই পরিচিত। নয়াদিল্লির অরবিন্দ মার্গের উল্টো দিকে হজ খাস এলাকায় অবস্থিত এই কাটা মাথা মিনারটি যা দর্শকদের কাছে যুগ যুগ ধরে এক আলাদা কৌতূহল বহন করে। এবং গভীর রাতে যথেষ্ট আতঙ্ক করে রাখে এলাকাবাসীদের।

ইতিহাস থেকে জানা যায় দিল্লিতে যখন খলজী অংশ চলছিল ঠিক তখনই আলাউদ্দিন খলজি 225 টি রন্ধবিশিষ্ট এই চোর মিনারকে তৈরি করেন। শোনা যায় আলাউদ্দিন খলজি না কি তাঁর নগরকে বাঁচানোর জন্যই এই মিনারটি তৈরি করেছিলেন তাঁর উদ্দেশ্য ছিল কেউ অপরাধ করলে তাঁকে এই মিনারে বন্দি রেখে শাস্তি দেওয়া হবে, চেষ্টায় এই মিনারের নাম দেওয়া হয় চোর মিনার। আলাউদ্দিন খলজির শাসন কালে কেউ অপরাধ করলে তাঁকে শাস্তি হিসেবে এই মিনারে নিয়ে সে মাথা কেটে মিনারের ওই রন্ধ্রের মধ্যে ঝুলিয়ে দেওয়া হত,যাতে ওই ব্যক্তিকে দেখে আর কেউ অপরাধ করার সাহস না পায়।

অন্যদিকে ইতিহাস বলছে অন্য কথা। এই মিনারাটি যুদ্ধবন্দিদের কাঁটা মাথা প্রদর্শনের জন্য ব্যবহার করতেন আলাউদ্দিন খলজি। যাতে মোঙ্গলরা নিজেদের মতো দল তৈরি করে যুদ্ধ ঘোষণা না করতে পারে এ জন্য মোট আট হাজার মোঙ্গলদের মাথা কেটে তিনি সেখানে ঝুলিয়েছিলেন, আর এখানেই প্রশ্ন উঠেছে। কারণ ইতিহাস বলছে সেখানে গর্তের সংখ্যা ছিল দুই শ পঁচিশটি তা হলে আট হাজার মোঙ্গলদের মাথা ধরল কী ভাবেই? ইতিহাস থেকে জানা যায় যে আলাউদ্দিন খলজি নাকি উচ্চবর্ণ এবং ক্ষমতাবান মানুষের কাটা মুণ্ডু ওই গর্তেই ঝুলিয়েছিলেন আর বাকিদের মূল্য ওই মিনারের মধ্যেই জড়ো করে রাখা হয়েছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় আলাউদ্দিন খলজির বংশ শেষ হয়ে গেছে বহু কাল আগেই কিন্তু ওই গর্তের মধ্যে ঝোলানো কাটা মাথার সেই সমস্ত মানুষের অতৃপ্ত আত্মা এখনও ঘোরা ফেরা করে ওই মিটারের মধ্যেই শুধু তাই নয় কখনও কখনও তাঁদের বিলাপের কথাও শোনা যায়, শোনা যায় তাদের দীর্ঘশ্বাস আবার কখনও ওই গর্তের মধ্য থেকে কাটা মুণ্ডুর চোখ গুলি ঠিকরে বেরিয়ে আসে। যা রাতের অন্ধকারে ভয়ানক আকার ধারণ করে। এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে ওই সমস্ত কাটা মুণ্ডুর অত্যাচারে তটস্থ স্থানীয়রা।