কি করে আগে থেকে বুঝবেন যে আপনার হার্ট অ্যাটাক হবে..

436
কি করে আগে থেকে বুঝবেন যে আপনার হার্ট অ্যাটাক হবে..

অকস্মাত্‍ হার্ট অ্যাটাক আর তাতেই শেষ হয়ে যেতে পারে জীবন। এখন প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটছে। খাওয়া দাওয়া থেকে শুরু করে নানা কু-অভ্যাসের ফলেই নেমে আসে এই ভয়াবহ বিপদ।

তবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এমন সত্যিই আকস্মিক তা কিন্তু নয়। হার্ট অ্যাটাকের অন্তত একমাস আগে থেকে শরীরই জানান দেয় যে শরীরের ভেতরে কিছু একটা সমস্যা হচ্ছে।

আমাদের শরীরের করোনারি আর্টারিতে রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ার দরুনই হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা দেখা যায়। তবে তা একদিনে হয় না। ধীরে ধীরে সে লক্ষণ ফুটে উঠতে থাকে।

জেনে নিন সেই লক্ষণগুলো সম্পর্কে-

১। যদি অতিরিক্ত ক্লান্তিভাব গ্রাস করে, তবে তা অবহেলা করার কিছু নেই। কেননা এ ক্লান্তিই পরে অ্যাটাকের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলে। আসলে এই দূর্বলতা হল রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ার ফল। আর্টারিগুলো সরু হয়ে যাওয়ার ফলে পেশি দূর্বল হয়ে পড়ে। এই ক্লান্তি তথা দূর্বলতা কিন্তু অ্যাটাকের অশনি সংকেত।

২। ঝিমুনিকেও স্বাভাবিক ক্লান্তির কারণ ধরে নিয়ে অবজ্ঞা করা মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। কেননা পর্যাপ্ত রক্তপ্রবাহ না থাকার কারণে শরীরে ক্লান্তি, ঘাম ও অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। এবং এসব বেশ কিছুদিন আগে থেকেই শুরু হয়।

৩। যদি কাঁধে, হাতে ক্রমাগত ব্যাথা হতে থাকে তবে সঙ্গে সঙ্গে চিকিত্‍সকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আর বুকে ব্যথা বা বুকে চাপ ধরলে তো অবহেলা করা উচিতই নয়।

৪। হার্ট অ্যাটাকের আগে বহু রোগীর ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, তারা হালকা জ্বরে ভুগছেন। কেউবা ঠাণ্ডা লাগায় ভুগছেন। এরকম হতে থাকলে কিন্তু শারীরিক অবস্থা খতিয়ে দেখা উচিত।

৫। যদি নিঃশ্বাসের সমস্যা দেখা যায়, দমবন্ধ লাগে, তবে মোটেও অবহেলা করা উচিত নয়। প্রতিটি অঙ্গই পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেন চায়।

কিন্তু হার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হলে ফুসফুসও সমস্যায় পড়ে। তাই এই দমবন্ধ অবস্থা দেখা দেয়। এর সঙ্গে এসে জোড়ে বমি বমি ভাব, তলপেটে ব্যাথা ইত্যাদি উপসর্গ।

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হার্টের ক্ষতি ধারাবাহিকভাবে হতে থাকে। রক্তপ্রবাহ কমতে থাকার লক্ষণ আগেভাগেই জানান দেয় শরীর। সেইমতো বুঝে গোড়াতেই চিকিত্‍সা করলে অনেকসময়ই অ্যাটাকের সম্ভাবনা এড়ানো যায়।