তরুণ ধরে রাখতে এই পাতার বিকল্প নেই! দেখুন বিস্তারিত

333
তরুণ ধরে রাখতে এই পাতার বিকল্প নেই

পালং শাক বারোমাসি সবজি হলেও শীতেই সবচেয়ে বেশি মেলে এই শাক। অন্যান্য শাকের তুলনায় এর পাতার ধরনে যেমন তফাত এর রন্ধন শৈলীরও আছে ভিন্নতা। তবে এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনন্যতা হল এর পুষ্টিগুণ। আবার সেইসবের মধ্যে বিশেষগুণ হলো তা চেহারার তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও স্মৃতিশক্তি দুর্বল বা কোনো কিছু অল্পতেই ভুলে যাওয়ার মতোও রোগেও ব্রাহ্মী শাকের পাশাপাশি পালং শাকও ভালো কাজ করে।

ক্যানসার প্রতিরোধেও অব্যর্থ দাওয়াই এই পালং শাক। তাই নিয়ম করে পালং শাক খাওয়া শুরু করার আগেই জেনে নিন আর কী কী উপকারীতা এই শাকের-

পালং শাকে থাকা উচ্চ মাত্রার ম্যাগনেসিয়াম দারুণভাবে রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

ভিটামিন এ, লিম্ফোসাইট বা রক্তের শ্বেত কণিকার প্রয়োজনীয় মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও শক্তিশালী করে।

পালং শাকে ১০টিরও বেশি ভিন্ন ধরনের ফ্ল্যাভোনয়েড রয়েছে যা ভয়ানক সব রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে।

সাধারণত সবুজ শাক সবজিতে লুটেনসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইটোকেমিক্যাল থাকে যা দৃষ্টি শক্তি বাড়িয়ে দেয়। পালং শাকে থাকা উচ্চ মাত্রার বিটা ক্যারোটিন চোখের ছানি পড়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

ভিটামিন এ ত্বকের বাইরের স্তরের আর্দ্রতা বজায় রাখতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটা বিভিন্ন ধরনের ত্বকের সমস্যা যেমন ব্রণ, বলিরেখা পড়া ইত্যাদির দূরীকরণেও বেশ কার্যকর। এছাড়া এটা ত্বকের বয়সের ছাপ পড়ার গতিকে ধীর করে এবং ত্বককে নরম ও স্থিতিস্থাপক অবস্থা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

পালং শাকে থাকা পুষ্টি উপাদান শরীরের ক্লান্তিভাব দূর করে শক্তির মাত্রা বৃদ্ধি করে।

পালং শাকে আছে নিওজেন্থিন উপাদান যা প্রদাহ নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যাদের হাড়ের জোড়ায় ব্যাথা আছে তারা নিয়মিত খাদ্য তালিকায় পালং শাক রাখলে বেশ উপকার পাবেন।

এই সবজিতে থাকা ফলিক এসিড সুস্থ কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হৃদযন্ত্রের সুস্থতা ধরে রাখতে পালং শাকের ওপর নির্ভরতা রাখতে পারেন।

শিকাগোর হেলথ ও এজিং প্রকল্পের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পালং শাকে আছে প্রচুর পরিমাণে ফ্ল্যাভনয়েড, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এটি মস্তিষ্ককে সতেজ রাখে। মস্তিষ্কের বয়স কমাতে সাহায্য করে। দীর্ঘদিন মস্তিষ্কের শক্তি অটুট রাখে। অনেক বেশি বয়স পর্যন্ত স্নায়ুতন্ত্র নির্ভুলভাবে কাজ করে।

এছাড়া এতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘ই’। দিনে গড়ে ৩০ গ্রাম পালং শাক খেলে ভবিষ্যতে অ্যালঝাইমার্স হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়।

জাপানের একদল বিজ্ঞানী এবং হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল সম্প্রতি একটি গবেষণা চালায়। গবেষকদের দাবি, পালং শাকের ফ্ল্যাভনয়েড নারীদের শরীরে অব্যর্থ ওষুধের কাজ করে। গর্ভাশয় ক্যানসারের শঙ্কা প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যায়। এছাড়া পালং শাকে থাকা ক্যারটিনয়েড, নিওজ্যানথিন প্রস্টেট ক্যানসারের কোষকে মেরে ফেলে।

এছাড়াও পালং শাকে আছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। এটি মাতৃত্বকালীন ডায়াবেটিস থেকে শরীরকে রক্ষা করে।

গর্ভস্থ শিশুর মেধা বিকাশেও এই শাকের গুরুত্ব অপরিসীম। ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, ও বি৬ প্রচুর পরিমাণে রয়েছে পালং শাকে, যা চুল পড়া রোধ করে ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।