সত্যিই আকাশে উড়বে গাড়ি, নভেম্বরেই ইতিহাস গড়বে ব্রিটেন

8870

আমরা ছোটবেলা থেকে বহু সিনেমায় দেখে এসেছি যে, গাড়ি হাওয়ায় উড়ে যাচ্ছে,কোন মানুষ বাইক নিয়ে উড়ে যাচ্ছে হাওয়াতে। মাটির নিচ দিয়ে ট্রেন যাওয়া অথবা আকাশপথে ট্রেন যাওয়া কয়েক বছর আগেও আমাদের কাছে ছিল অবাস্তব। কিন্তু অবাক হবার বিষয়টি হলো, আজ আমরা এই সমস্ত যানবাহনে চড়ে অভ্যস্ত।

তবে এবার কল্পবিজ্ঞান নয়, চোখের সামনে উড়তে দেখা যাবে আকাশে গাড়িকে। গত এক দশক ধরে যানজট এড়ানোর জন্য এই প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ শুরু হয়েছিল। এই বিষয়ে এবার সফলতা অর্জন করল কভেন্ট্রি শহর। সেখানে তৈরি করা হয়েছে একটি ছোট্ট বিমানবন্দর যার নাম, এয়ার ওয়ান। এই বিমানবন্দরে বিমান নয়, ফ্লাইং কার ওঠানামা করানো যাবে। বৃটেনের একটি সংস্থা কোরিয়ান গাড়ি সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে এক দশক ধরে কাজ করে তৈরি করেছেন বিশ্বের প্রথম বিমান বন্দর, যেখানে উড়ন্ত গাড়ি ওঠানামা করবে।

এই সংস্থায় বারো লক্ষ পাউন্ড অনুমোদন করেছেন বরিস জনসন। যানজট এড়ানো তো বটেই, পরিবেশবান্ধব হয়ে ওঠার সুযোগ হবে এইরকম গাড়ি চলাচল করলে। আধুনিক ড্রন যে টেকনোলজি ব্যবহার করে ওড়ানো হয়, ঠিক একই টেকনোলজি ব্যবহার করা হবে এই ক্ষেত্রে। বিভিন্ন পণ্য সরবরাহ আরো অনেক দ্রুত গতিতে হবে এই গাড়ির ফলে।

গতবছর জাপানের স্কাইড্রাইভ ইনকর্পোরেশন এই উড়ন্ত যানে একজন যাত্রীকে নিয়ে সফল পরীক্ষা করেছে। আর দুই বছরের মধ্যে সফলভাবে এই গাড়ি লঞ্চ হবে বলে জানা গেছে। গত তিন দশকের কঠোর পরিশ্রমের ফল আমরা দেখতে পাব আর দুই বছরের মধ্যে। স্লোভাকিয়ান একটি সংস্থা, এমন গাড়ি তৈরি করেছে যা চোখের পলকে গাড়ি থেকে পাল্টে যাবে বিমানে।

গাড়ির সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ভারতীয় বংশোদ্ভূত রিকি সাধু। তিনি জানিয়েছেন যে,এই গাড়ি ব্যবহার করার ফলে জীবন আরো অনেক স্বচ্ছন্দ হয়ে উঠবে। খুব তাড়াতাড়ি মানুষ বুঝতে পারবে এর উপকারিতা। তবে করোনার প্রাক্কালে বরিস জনসন সরকারের এই সহযোগিতা অনেকেই সমালোচনা করেছে। অনেকেরই মনে হয়েছে করোনার জন্য এই টাকা বরাদ্দ হলে আরো অনেক উপকার পেত অসাধারণ মানুষ।