মেরুদণ্ডের বড় অসুখ এঙ্কাইলজিং স্পন্ডিলাইটিস! তাই সাবধানে থাকুন! দেখুন একবার

248
মেরুদণ্ডের বড় অসুখ এঙ্কাইলজিং স্পন্ডিলাইটিস

দীর্ঘস্থায়ী এক যন্ত্রণাদায়ক সমস্যার অন্য নাম এঙ্কাইলজিং স্পন্ডিলাইটিস। এঙ্কাইলজিং স্পন্ডিলাইটিস এক ধরনের আরথ্রাইটিস, যেটা সাধারণত আমাদের মেরুদণ্ড এবং কোমরের পেলভিক জয়েন্টে হয়। এ রোগ হলে একসময় কোমরের কশেরুকাগুলো একটা আরেকটার সঙ্গে লেগে যায়, কোমরে অনেক ব্যথা হয়, পেছনে ঝুঁকে পড়া এবং দুই পাশে কাত হওয়া কঠিন হয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে আমাদের দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটতে থাকে। একসময় ঘাড়, পিঠ, কোমর, পেলভিস ও হাঁটুসহ অন্যান্য জয়েন্টে ব্যথা এবং স্টিফ শক্ত হয়ে যেতে পারে।

এখন পর্যন্ত একেবারে সঠিক কোনো কারণ জানা যায়নি কেন এ সমস্যা হয়ে থাকে। তবে যাদের পরিবারে এ ধরনের সমস্যা কারো হয়েছে, তার এঙ্কাইলজিং স্পন্ডিলাইটিস হওয়ার ঝুঁকি বেশি। মোট জনসংখ্যার শূন্য দশমিক ১ থেকে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ লোকের এ সমস্যা হয়ে থাকে। বিশেষ করে ১৭-৪৫ বছরের মধ্যে এ সমস্যা হয়। সাধারণত মেয়েদের চেয়ে ছেলেদের এ সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। যাদের এইচএলএবি ২৭ জিন আছে, তাদের ৯০-৯৫ শতাংশের এঙ্কাইলজিং স্পন্ডিলাইটিস হয়ে থাকে। বাকি ৬-৯ শতাংশের সাধারণত হয় না।

কেমন করে বুঝবেন?

এঙ্কাইলজিং স্পন্ডিলাইটিসের ফিজিক্যাল লক্ষণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো তিন মাস ধরে কোমর ব্যথা এবং স্টিফনেস, কোমরের পেছনে এবং দুই পাশে বাঁকা করা যায় না। কোমরের দুই পাশে নিচের সেক্রোইলিয়াক জয়েন্টও ব্যথা হয়। একসময় পুরো পিঠে ব্যথা শুরু হয়। সকালবেলা কোমর স্টিফ হয়ে থাকে ৩০ মিনিটের বেশি এবং ধীরে ধীরে শক্তভাব কমতে থাকে। কাজ না করলে ব্যথা এবং স্টিফনেস বাড়তে থাকে এবং ব্যায়াম করলে ভালো লাগে। একসময় অন্যান্য জয়েন্টেও ব্যথা শুরু হয়।

ভালোভাবে ডায়াগনসিসের জন্য একজন রিউমাটোলজিস্টের পরামর্শ অপরিহার্য। তাই তিন মাসের বেশি কোমর ব্যথা থাকলে একটু ভিন্নভাবে চিন্তা করা উচিত। স্পাইনের এক্স-রে করলে ব্যাম্ব (বাঁশ) আকৃতির স্পাইন পাওয়া যায়। কারণ স্পাইনগুলো ফিউজড হয়ে একে অন্যের সঙ্গে লেগে যায়, ফলে এক্স-রেতে স্পাইনের জয়েন্টগুলো বাঁশের গিরার আকৃতির মতো দেখা যায়।

চিকিৎসা কেমন হবে?

এঙ্কাইলজিং স্পন্ডিলাইটিস রোগীকে একজন রিউমাটোলজিস্ট এবং একজন ফিজিওথেরাপিস্ট যৌথভাবে চিকিৎসা করে থাকেন।

একজন রিউমাটোলজিস্ট এঙ্কাইলজিং স্পন্ডিলাইটিস ডায়াগনসিস কনফার্ম করার পর তিনি বিভিন্ন ধরনের ব্যথার ওষুধ, স্টেরয়েড, ডিজিজ মডিফাইং ড্রাগস এবং বায়োলজিক্যাল এজেন্ট দিয়ে এঙ্কাইলজিং স্পন্ডিলাইটিস সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন।

ফিজিওথেরাপিস্ট বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম এবং ম্যানুয়াল টেকনিকের মাধ্যমে রোগীর ব্যথা দূর করে, ফাংশনাল অ্যাক্টিভিটি ধরে রাখে, স্পাইনের মোবিলিটি বা নড়াচড়া বাড়ায়, মাংসপেশিকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। তাই ভয় না পেয়ে যত দ্রুত রোগটি নির্ণয় করা যাবে, ততই চিকিৎসা কার্যকর করা যাবে।

বাড়িতে যা করতে পারেন

শরীরের সব জয়েন্টকে নড়াচড়া করানো জরুরি।

সাঁতার কাটা

ফ্রি হ্যান্ড মুভমেন্ট করতে হবে।

রোগটি নিয়ন্ত্রণের জন্য ওষুধের পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।