ফিজিওথেরাপিতে কমবে ঘাড়ব্যথা! ১০০ শতাংশ নিরাপদ! দেখুন কাজে লাগবে

224
ফিজিওথেরাপিতে কমবে ঘাড়ব্যথা

দীর্ঘসময় বসে কাজ করার অভ্যাস থাকলে ঘাড়ের মেরুদণ্ডের ভার্টিব্রা কাছাকাছি চলে আসে ও দুটি ভার্টিব্রার মাঝে অবস্থিত জেলির মতো নরম অংশ চাপের ফলে বের হয়ে ঘাড়ের দিকে স্পাইনাল নার্ভকে চাপ দেয়। আর সে কারণেই ব্যথা হয়

অধিকাংশ ক্ষেত্রে যারা দীর্ঘসময় কম্পিউটারের সামনে কাজ করেন, তাদের নেক পেইন বা ঘাড়ব্যথা স্বাভাবিক। বেশির ভাগ সময় আমরা কাজের চাপে ভুলে যাই যে কিছুক্ষণ পরপর একটু হাঁটাহাঁটি করে আসা উচিত। এ ধরনের কাজে যারা নিমগ্ন থাকেন, তারা অনেকেই ঘাড়ে মাঝে মধ্যে এক ধরনের চাপা ব্যথা অনুভব করেন।

ব্যথা তাড়াতে মালিশ করে বা ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে ফের কাজে ডুব দেন তারা। এভাবেই কখনো ব্যথা কম বা বেশি নিয়ে কম্পিউটারে কাজ করেন বেশির ভাগ মানুষ। এরপর ব্যথা বেড়ে গেলে যেটা হয় তা হলো, কিছুক্ষণ কাজ করলেই হাত ধরে আসে ও অবশ লাগে। ঝিনঝিন করতে থাকে।

মূল কথা হচ্ছে, আমরা অনেকেই দীর্ঘসময় বসে ডেস্কে কাজ করি। মাথা নিচের দিকে দিয়ে বই পড়ি, লিখি বা কম্পিউটারে কাজ করি। ফলে ঘাড়ের মাংসপেশিতে চাপ পড়ে মাসল স্পাজম হয়। দীর্ঘদিনের অভ্যাসের কারণে ঘাড়ের মেরুদণ্ডের ভার্টিব্রা তখন কাছাকাছি চলে আসে।

ফলে দুটি ভার্টিব্রার মাঝে অবস্থিত জেলির মতো নরম অংশ চাপের ফলে বের হয়ে ঘাড়ের দিকে স্পাইনাল নার্ভকে চাপ দেয়। আর সে কারণেই ব্যথা ঝিনঝিন বাহু থেকে হাতের আঙুল পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। এ অবস্থায় ফিজিওথেরাপি কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

আপনি যা করতে পারেন তা হলো, একটি চেয়ারে ঘাড় সোজা করে বসুন। এবার আপনার ডান হাতের তালু কপালে রাখুন এবং কপাল দিয়ে হাতে চাপ দিন, কিন্তু চেষ্টা করুন হাত না সরাতে। চাপ দিয়ে ১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এভাবে মাথার পেছনে, দুইপাশ এবং চিবুকের নিচে হাত রেখে একইভাবে ব্যায়াম করুন। খেয়াল রাখুন ব্যায়াম করার সময় যেন ঘাড়ে কোনো মুভমেন্ট বা নড়চড় না হয়। প্রতিটি ব্যায়াম ১০ বার করে করুন দিনে একবার। অথবা কাজের ফাঁকে প্রতি ২ ঘণ্টা পর এক থেকে দুবার করুন।

নিয়ম মেনে চলুন-

* এখন থেকে সচেতন হতে হবে।

* দীর্ঘ সময় ঘাড় নিচু করে বসবেন না।

* কাজের টেবিলকে নিজের উচ্চতা অনুযায়ী এডজাস্ট করে নিন।

* নিয়মিত ঘাড়ের ব্যায়াম করুন। শোয়ার সময় লক্ষ করুন, বালিশ যেন ঘাড়ের নিচে থাকে।