দেখে নিন কাশ্মীরে প্রাচীন গুহার ভেতরে অবস্থিত মা বৈষ্ণব দেবীর মন্দিরের অজানা তথ্য

262

বৈষ্ণোদেবী, নামটা আমাদের সকলের কাছে খুবই পরিচিত। প্রত্যেকটি মন্দিরের পেছনেই থাকে কোন না কোন ইতিহাস। এই মন্দিরটি পেছনে একটি খুব সুন্দর ইতিহাস লুকিয়ে রয়েছে। কাশ্মীরে একটি প্রাচীন গুহার ভেতরে অবস্থিত মন্দিরটি। বহু দূর থেকে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয় মন্দিরে। মনে করা হয় মা বৈষ্ণব দেবীর কাছে একবার কোন জিনিস ছাড়া হলে মা সবসময় তার ভক্তদের মনোকামনা পূর্ণ করেন। অবাঙালি এবং মাড়োয়ারি দের মধ্যে বৈষ্ণ দেবি কে মানার একটি আলাদা রীতি আছে। যেকোনো হিন্দি সিরিয়াল বা সিনেমাতে লক্ষ্য করে দেখা যায়, বৈষ্ণোদেবী মন্দির বা মায়ের পুজো সংক্রান্ত কোন দৃশ্য থাকে।

এবার জেনে নেওয়া যাক এই প্রাচীন মন্দির এর পেছনের গল্প। মনে করা হয়, প্রাচীন বৈষ্ণোদেবী মন্দির টি তৈরি করেছেন শ্রীধর নামে এক গরীব পূজারী। শ্রীধর নামে এই পূজারী র মনে ভক্তি ছিল মায়ের প্রতি। তার খুব ইচ্ছা ছিল যে সে মায়ের মন্দির প্রতিষ্ঠা করবে। কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারণে সেটি হয়ে উঠছিল না। তাই তার একদিন খুব ইচ্ছে হলো যে সে মায়ের নামে লোকজন খাওয়াবে। যেমন ভাবা তেমনি কাজ। তিনি একদিন আশেপাশে সমস্ত ব্যক্তিদের নেমন্তন্ন করলেন, মায়ের পুজোর ভোগ খাওয়ানোর জন্য। অনুষ্ঠানের দিন শ্রীধর বাড়ি বাড়ি গিয়ে পূজোর সামগ্রী জোগাড় করেন।

কিন্তু যতজন তিনি নিমন্তন্ন করেছিলেন তার তুলনায় সামগ্রী ছিল খুবই কম। শ্রীধর প্রচন্ড পরিমানে চিন্তায় পড়ে গেলেন। এইকম আয়োজনে কিভাবে তিনি অত মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেবেন সেই চিন্তায় রাতে ঘুম হচ্ছিল না। অনুষ্ঠানের আগের দিন সারারাত তিনি চিন্তায় জেগে কাটিয়ে দিলেন। পরেরদিন সময়মতো তিনি বসলেন মায়ের পুজো করতে। মায়ের পুজো বসার পরেই আশেপাশের লোক জড়ো হতে আরম্ভ করল সেখানে। শ্রীধর এর আশেপাশে প্রত্যেকে এক এক করে বসতে আরম্ভ করে দিলেন। শুধুমাত্র তার কুটিরের একটি স্থান ফাঁকা থেকে গেল, সেখানে এসে বসলো একটি ছোট মেয়ে।

পরিবেশন করতে শুরু করায় দেখা যায় সেই বাচ্চা মেয়েটির শ্রীধর সঙ্গে পরিবেশন করতে শুরু করে। আশ্চর্যের বিষয় হলো প্রত্যেক নিমন্ত্রিত ব্যক্তি পেটপুরে খেয়ে যাবার পরেও খাবার একটুও কম পড়েনি। অনুষ্ঠান শেষে শ্রীধর সেই মেয়েটিকে খোঁজার চেষ্টা করলেন, কিন্তু কোথাও তাকে দেখতে পাওয়া গেল না। কিছুদিন পরে সেই মেয়েটি শ্রীধর স্বপ্নে এলেন। শ্রীধর বুঝতে পারলেন তাকে সেদিন যে মেয়েটি সাহায্য করেছিলেন সে আর কেউ না স্বয়ং বৈষ্ণোদেবী। মা বৈষ্ণ দেবি ধরে স্বপ্নে এসে একটি গুহার খোঁজ দিলেন, এবং মন্দির বাড়ানোর জন্য নির্দেশ দিলেন।