এক রহস্যের নাম ভীমকুন্ড, গভীরতা মাপা সম্ভব হয়নি আজও, জানুন রহস্য

10

ভীমকুণ্ডের নামটি আমরা সেই প্রাচীনকাল থেকেই শুনে আসছি। কারণ মহাভারতে এর নাম উল্লেখ আছে। মধ্যপ্রদেশের ছতরপুর জেলায় এই কুণ্ডের অবস্থান। এই জলাশয়ের অপর নাম নীলকুণ্ড। ভীমকুন্ডুকে কেন্দ্র করে কিছু রহস্যময় কাহিনী আছে চলুন সেই সম্পর্কে আমরা কিছু আলোচনা করব।

ভীমকুণ্ড দেখতে জলাশয়ের মত হলেও এটি সাধারণ জলাশয় নয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা যায় যখনই কোনো বিপদ পৃথিবীর দিকে ঘনিয়ে আসে তখন এই জলাশয়ে জলকে উত্তাল হতে দেখা যায়। ২০০৪-এর সুনামির সময় ভীমকুণ্ডের জল নাকি ১৫ ফুট উঁচুতে উঠেছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

ভীমকুণ্ডের আরও একটি বিশেষত্ব হল আজও এর গভীরতা মাপা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় প্রশাসন থেকে বিদেশি বৈজ্ঞানিকরা সবাই ব্যর্থ হয় এই অভিযানে। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হল ভীমকুণ্ডের ২৫০ ফুট গভীরে যাওয়ার পরই তীব্র স্রোত যেন কোথা থেকে উদয় হচ্ছে। স্রোত যে কোথা থেকে আসছে তা জানা সম্ভব হয়নি।

এই জলাশয়ের জল কমানোর জন্য ১৯৭৭ সালে ছতরপুর জেলা প্রশাসন থেকে তিনটে পাম্প লাগিয়েছিল। পাম্প দিয়ে এই ভীমকুণ্ড জল তোলার পরেও জলস্তর এক ইঞ্চিও কমেনি বলে জানিয়েছে এই স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘন জঙ্গলের মধ্যে ভীমকুণ্ডের জলে সূর্যের আলো পড়লেই জলের রং নীল দেখায় এই জন্য এই জলাশয়ের নামকরণ হয়েছে নীলকুণ্ড। পুরানে যে নীলকুণ্ডের কথা বলা হয়েছে সেই নীলকুণ্ডের সঙ্গে এই নীলকুণ্ডের সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়।

মহাভারতে এই ভীমকুণ্ডের উল্লেখ পাওয়া যায়। ১২ বছর বনবাসের সময় যখন পাণ্ডবরা এক বছর অজ্ঞাতবাসে দিন কাটাচ্ছিলেন, তখন এই ভীমকুণ্ডের পাশ দিয়েই তারা যাচ্ছিলেন। যাবার সময় দ্রব্যটির খুব তৃষ্ণা লাগে। তখন সেখানেই ভীমকুণ্ড ছিল না। জায়গায় জল খুঁজে না পাওয়ায় অবশেষে ভীম তাঁর গদা দিয়ে মাটিতে আঘাত করতে থাকে। ভীমের গদার আঘাতে মাটি ফেটে জল বেরিয়ে আসে তখনই এই জলাশয়ের সৃষ্টি হয়।