আহারে, বাহারে পৌষ পার্বণ! রাত পোহালেই বাঙালি কামড় বসাতে প্রস্তুত পিঠে পুলির রকমারি স্বাদে

12

আগামীকাল পালন করা হবে পৌষ সংক্রান্তি। পৌষ মাসের শেষ দিন পালন করা হয় মকর সংক্রান্তি। বাংলা ঐতিহ্যের অন্যতম রীতি হিসাবে আমরা পালন করি এই সংক্রান্তি কে। এই উৎসবকে ঘিরে আনন্দ করা হয় বাঙালির ঘরে ঘরে। পিঠে পুলি এবং মিষ্টিমুখ করানো হয় একে অপরকে। তারে পৌষ সংক্রান্তি নিয়ে বহু লোক কথা চলিত রয়েছে। মকর সংক্রান্তিতে মহাভারতের পিতামহ ভীষ্ম শরশয্যা ইচ্ছা মৃত্যু গ্রহণ করেছেন বলে শোনা যায়। পাশাপাশি এও শোনা যায় যে, সেদিন সূর্য নিজের ছেলে মকর রাশির অধিপতি এক মাসের জন্য ঘুরতে গিয়েছিলেন।এই বিশেষ দিনে দেবতাদের সঙ্গে অসুরের যুদ্ধ শেষ হয়েছিল বলেও শোনা যায়।

অসুরদের বধ করে দেবো তারা তাদের কাটা মুন্ডু পৌঁছে দিয়েছিলেন মন্দিরা পর্বতে। ঠিক এই কারণেই এই দিনকে খুব শুভ বলে মনে করা হয়। সংক্রান্তি কথাটির অর্থ হল গমন করা। এইদিন মকর রাশিতে সূর্য প্রবেশ করে নিজের কক্ষপথ থেকে সরে এসে। তাই এই দিনটিকে সংক্রান্তি বলা হয়। সমস্ত রকম শুভ কাজ শুরু হয় এই দিন।

নতুন ফসল তোলার উৎসব পালন করা হয় এই দিনে। এই দিনে দক্ষিণ শেষে সূর্যের উত্তরায়ন পালিত হয় ঘরে ঘরে। এই দিন বাঙালিরা দূরে কোথাও যাত্রা করে না।খুব দরকারে যাত্রা করলে বাড়ি ফিরে আসে রাতে। এই দিন বাঙালিরা নিজেদের ঘরবাড়ি রান্নার বাসন সবকিছু পরিষ্কার করে রাখে। অশুভ শক্তিকে বিদায় দিয়ে শুভ শক্তির আরাধনা করে বাঙালিরা।

এই সংক্রান্তি কে নতুন ফসলের মৌসুমের প্রথম দিন এবং শীতকালে শেষ দিন বলে মনে করা হয়। প্রত্যেক বছর এই দিন আয়োজন করা হয় গঙ্গাসাগর মেলা। কপিল মুনির আশ্রম কে কেন্দ্র করে বহু ভক্তরা পুণ্য স্নান করতে আসে এখানে। এছাড়াও বিরাট মেলা আয়োজিত করা হয় এখানে।

পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে বীরভূমের কেন্দুলী জয়দেব মেলা হয়। এখানে বাউল গান শুনতে বহু মানুষ আসেন দূর থেকে। এছাড়াও টুসু উপলক্ষে একাধিক মেলা বসে। বাংলাদেশ বাড়িতে চালের গুঁড়া, ময়দা,নারকেল,দুধ,গুড় দিয়ে পিঠা তৈরি করা হয়। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী প্রধান উৎসব এর মধ্যে এই উৎসবটি হলো সর্বপ্রথম।উৎসব বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ভাবে পালন করা হলেও ঘুড়ি ওড়ানোর জন্য এক জায়গায় একত্রিত হয় সকলে। চলতি বছরে ১৪ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার পড়েছে মকর সংক্রান্তি।