এলো পিঠে-পুলি উৎসব? জানুন অজানা কাহিনী

26

ছটি ঋতুর মধ্যে বাঙ্গালীদের কাছে সর্বকালের প্রিয় দুটি ঋতু হলো শরৎ এবং হেমন্ত। শরৎকাল মানে বাঙালির প্রিয় শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গোৎসব। সারা বছর ধরে বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনা এই দুর্গোৎসবকে ঘিরে থাকে। তবে দুর্গোৎসব চলে গেলে মনের মধ্যে অন্যরকম আনন্দের জায়গা করে নেয় হেমন্তকাল। সকলেই জানি যে হেমন্তকাল অত্যন্ত ছোট তবে সামরিক হলেও বাঙ্গালীদের মনে একটি বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে ঋতুটি।

হেমন্তকাল আসা মানে প্রথম যে জিনিসটি মনে আসে সেটি হল পিঠে। নতুন ধান এবং সেই চাল দিয়ে তৈরি বিভিন্ন রকমের পিঠে বাঙ্গালীদের কাছে সর্বকালের প্রিয় একটি জিনিস। শুধু পিঠেই নয় তার সাথে বিশেষ আরও একটি আকর্ষণীয় জিনিস হল নতুন গুড়।

পৌষ সংক্রান্তি আসামে বাঙালিদের মনে পিঠেপুলি খাবার ইচ্ছা বিশেষ ভাবে প্রকাশ পায়। তবে এটি বহুদিন থেকেই প্রচলিত হয়ে আসছে। অনেকে আবার পৌষ সংক্রান্তি ও প্রিয় অপেক্ষা করেন না, অঘ্রানের শুরুর দিক থেকেই পিঠেপুলির চল শুরু হয়ে যায়। বাঙ্গালীদের কাছে ঠান্ডার আমেজ মানে পিঠের আয়োজন। গ্রামে এর প্রচলন বেশি থাকলেও শহরে নেহাত কম নয়।

গ্রামে দেখা যায় আসল রূপটা অর্থাৎ কিভাবে ঘরে ঘরে মা বোনেরা নতুন চাল গুড়ো করে তা দিয়ে বিভিন্ন রকমের পিঠা তৈরি করতে ব্যস্ত থাকে। তবে শহরের দিকে চালগুঁড়ি করার প্রচলন অতটা না থাকলেও দোকান থেকে চাল গুঁড়ো কিনে এনে পিঠে বানানো বা মিষ্টির দোকান থেকে কিনে আনা পিঠের বাহার নেহাত কম নয়। দামি হোক বা শহর বাঙালিদের কাছে পিঠেপুলির স্বাদ এক অন্য রকম সুখ।

পিঠেপুলির আসল সময় পৌষ সংক্রান্তি পয়লা আক্রান্ত হলেও শীতকাল পড়তে না পড়তেই বাঙালির শুরু হয়ে যায় পিঠা-পুলির উৎসব। এর বিশেষভাবে প্রচলন দেখা যায় বাংলাদেশ। সেখানে দেখা যায় বিভিন্ন রকমের বিশেষ কিছু পিঠে, তাদের মধ্যে কিছু নাম হল- নকশা পিঠা, পুলি পিঠা, শিমুল পিঠা, চিতই পিঠা, ঝিনুক পিঠা, ঝাল পিঠা, চুষি পিঠা, মালপোয়া পিঠা, সূর্যমুখী পিঠা প্রভৃতি।

ইতিহাসের কথা বলতে গেলে পিঠেপুলির খবর খুব বেশি উল্লেখ নেই। তবে যখনই উঠে আসে শ্রীরামকৃষ্ণের গঠনশৈলীর কথা তখন সেখানে প্রতিবারই দেখা যায় পিঠেপুলির কথা উল্লেখ আছে। তবে আধুনিক যুগে বিভিন্ন রকমের খাবারের চল শুরু হয়ে গেছে, এখনকার বাচ্চারা পিঠের কথা বললে প্যানকেকের কথা বোঝে। নারকেলের পুর দিয়ে বানানো পাটিসাপটার বদলে তারা বোঝে চকলেটের পুর দিয়ে তৈরি প্যানকেক। এমনকি পুরানো পাটিসাপটা ও এখন আধুনিকতার ছোঁয়ায় নতুনভাবে রূপ নিয়েছে।

তবে যতই আধুনিকতার ছোঁয়া আসুক, বাঙ্গালীদের মধ্যে আগেও যেভাবে নতুন ফসল ওঠার উৎসব প্রচলিত ছিল কেমনি ভবিষ্যতেও থাকবে। এমনকি শুধু এ দেশেই নয় এমনকি শুধু দেশেই নয় বিভিন্ন দেশেও দেখা যায় নতুন ফসল উঠলো সেই ফসল দিয়ে করা রান্নার প্রচলন। যতই মানুষ আধুনিক হোক বাঙালির মধ্যে পিঠে পুলির চল কোনদিন ভোলা যাবে না।