দীর্ঘ এক যুগ পর সন্তানের সঙ্গে দেখা হলো মায়ের

9

অনেক সময় মানুষরা এমন অনেক কাজ করে থাকেন যা হয়তো জীবজন্তু রাও কল্পনা করে না। ছোটখাট ব্যাপারে আমাদের মানুষের সাথে জীবজন্তুদের তুলনা করা সাধারন ব্যাপার। কিন্তু আবেগ পারিবারিক বন্ধনে দিক থেকে অনেক সময় কিন্তু জীবজন্তুর এগিয়ে থাকে মানুষের আগে। এমনই একটি ঘটনা দেখা গেল জার্মানির একটি চিড়িয়াখানায়। দীর্ঘ এক যুগ পরে তার সন্তানের সঙ্গে দেখা হলো মায়ের। মেয়ের সঙ্গে দেখা হবার আনন্দে উৎফুল্ল মা হাতি। মেয়ের সঙ্গে রয়েছে আবার দুটি বাচ্চা।

জার্মানির হালি মাউনটেন জু এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে,”হাজার ১৯৮১ সালে একটি হাতির জন্ম হয় জিম্বাবুয়েতে। হাতিটার নাম রাখা হয়েছিল পরি। তাকে জার্মানিতে নিয়ে আসা হয় অন ১৯৮৩ সালে। সেখানে থাকে বিভিন্ন চিড়িয়াখানায় পর্যায়ক্রমে রাখা হয়। এমত অবস্থায় ২০০১ সালে বার্লিনের চিড়িয়াখানায় সে সন্তানের জন্ম দিয়েছিল। তার মেয়ের নাম রাখা হয়েছিল টানা। সেই মেয়ের বয়স ১৯ বছর”।

টানা এখন দুই শিশুর মা। তার দুই শাবক এর মধ্যে বড় টির নাম হল টামিকা, যার এখন বয়স ৪ বছর।
ছোটটির বয়স এলানি, যার বয়স এক বছর। পরীকে কিছুদিন আগেই হালি মাউন্টেন জু তে নিয়ে আসা হয়েছে। প্রায় এক যুগ পর দেখা হল তার সঙ্গে তার মেয়ের। বহুদিন পর নিজের মেয়েকে দেখতে পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই খুব খুশি টানা, সঙ্গে আবার দুই নাতনি কে দেখতে পেয়ে আনন্দে আপ্লুত হয়েছে টানা। টানার সন্তানরাও দিদিমাকে সাদরে অভ্যর্থনা জানিয়েছে”।

হ্যালি মাউন্টেন জু এর ডিরেক্টর ডঃ ডেনিস মুলার জানিয়েছেন যে, “এই চিড়িয়াখানাতে পরীর আগমন আধুনিক হাতি পালনের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। অদূর ভবিষ্যতে ইউরোপের সমস্ত চিড়িয়াখানাগুলোতে হাতিদের এই ভাবেই স্বাভাবিক পরিবেশ তাদের পরিবারের সঙ্গে রাখা হবে বলে জানা গেছে”।

চিড়িয়াখানার পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, জঙ্গলে হাতি রা সব সময় তাদের পরিবারের সঙ্গে থাকে। হাতির কন্যা সন্তান সারা জীবন মায়ের সঙ্গে থাকে। পরীকে প্রথম কয়েক দিন আলাদা রাখা হয়েছিল। তারপর তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার দেখা করার সুযোগ করে দেওয়া হয়। স্বাভাবিকভাবেই এই পদক্ষেপে খুব খুশি সেই হাতি পরিবার।