ফুচকার কোনো তুলনা নেই, কিন্তু জানেন কি ফুচকার উৎপত্তি কিভাবে হয়েছে?

15

সারা ভারতবর্ষের স্ট্রিটফুড তালিকার মধ্যে বলতে গেলে সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে ফুচকা। টক-ঝাল-মিষ্টি মুখোরোচক খাদ্য হিসেবে ফুচকার কোনো তুলনা নেই। অঞ্চল ভেদে কোথাও তা পানিপুরি, কোথাও গোলগাপ্পা কোথাও আবার ফুচকা, কোথাও ফুলকি, গুপচুপ, পাতাসে ইত্যাদি বিভিন্ন নাম রয়েছে এই লোভনীয় খাদ্যদ্রব্যের। ময়দা এবং সুজির মিশ্রণে তৈরি, আলুর পুর সহযোগে টক-ঝাল-মিষ্টি জলে ভরা ফুচকা আট থেকে আশি সকলেরই খুব প্রিয়।

কিন্তু এই যে ফুচকা, যার খ্যাতি সারা ভারতবর্ষজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে, তার উৎপত্তি কবে এবং কোথায়? এই প্রশ্ন বরাবরই ফুচকা প্রেমীদের মাথায় ঘোরাফেরা করে। এর কোনও সঠিক জবাব নেই। কারণ ভারতের প্রতিটি রাজ্যেই একেক ভাবে, একেক কম্বিনেশনে ফুচকা খাওয়ার চল আছেএবং সেই অনুযায়ী অঞ্চল বিশেষে নামও বিভিন্ন। কিন্তু পৌরাণিক কাহিনী গুলি ঘাঁটলে ফুচকার উৎপত্তি সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় গল্প পাওয়া যায়।

মহাভারতের কাহিনী অনুসারে, ফুচকার আবিষ্কর্তা ছিলেন পঞ্চপান্ডবের স্ত্রী দৌপদী। হ্যাঁ, এই গুণবতী নারীই নাকি এমন মুখোরোচক খাদ্যদ্রব্য বানিয়ে ছিলেন তার পাঁচ স্বামীর জন্য। কাহিনী অনুসারে, একদা পঞ্চপান্ডবের মাতা কুন্তী পুত্রবধূর রন্ধন ক্ষমতা বিচার করার জন্য তাকে কিছু ময়দা, আলু এবং সবজি দিয়ে খাবার বানানোর আদেশ দেন। শাশুড়ি মায়ের নির্দেশে দ্রৌপদী ময়দা এবং সুজি মিশ্রিত ছোট ছোট গোলার মধ্যে সবজির পুর ভরে বানিয়ে ফেললেন “ফুলকি”।

পুত্রবধূ দ্বারা প্রস্তুত এই নতুন এবং অভিনব খাদ্যবস্তু পেয়ে স্বভাবতই কুন্তি খুব খুশি হয়েছিলেন। তিনি এই খাদ্যবস্তুকে নাকি অমরত্বের বরদান দেন। তবে পৌরাণিক কাহিনী যাই বলুক না কেন, খাদ্য বিশেষজ্ঞদের দাবি এই অপূর্ব খাদ্যবস্তু ষোড়শ মহাজনপদের মগধ সাম্রাজ্য চলাকালীন আবিষ্কৃত হয়। সে যাই হোক, প্রাচীন যুগ থেকেই খাদ্যদ্রব্যের সাম্রাজ্যে ফুচকা ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়। আজও তার জনপ্রিয়তার ধারা অব্যাহত।