নুনের সঙ্গেও প্লাস্টিক মেশাচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা, জানালো গবেষকরা

16

বেশ কিছুদিন আগে “প্লাস্টিকের ডিম” ভেজাল খাদ্যের দুনিয়ায় এক নতুন নাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। ক্রেতারা দাবি করেছিলেন, এই ধরনের নকল ডিম ভাজতে গেলেই নাকি প্লাস্টিক পোড়ার মতো গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এই নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিলো, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে বেশ কিছুদিন ডিম বিক্রি রীতিমতো তলানিতে ঠেকে যায়। তবে শুধু ডিম নয়, ময়দা এমনকি বাঁধাকপির সঙ্গেও প্লাস্টিক মেশানঝর অভিযোগ উঠেছে।

অসাধু ব্যবসায়ীরা অসদুপায় বেশি অর্থ আয় করতে গিয়ে এভাবেই খাদ্যদ্রব্যের সঙ্গে প্লাস্টিকের মতো আরও নানান ধরনের বর্জ্য পদার্থ মিশিয়ে থাকেন। যা মানব শরীরের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর। এবার নিত্যপ্রয়োজনীয় নুনের মধ্যেও মিললো প্লাস্টিকের উপস্থিতি। নুনের উপর গবেষণা চালিয়ে একদল গবেষক জানালেন, বেশকিছু নামিদামি কোম্পানির লবণের মধ্যে মিশে থাকছে মাইক্রো প্লাস্টিক।

গবেষকেরা নুনের যে নমুনা নিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছেন তার মধ্যে তারা প্রায় ৬২৬টি মাইক্রোপ্লাস্টিক পেয়েছেন। উল্লেখ্য, এর মধ্যে ৬৩ শতাংশ প্লাস্টিকের টুকরো ছিল। বাদবাকি ৩৭ শতাংশ জুড়ে ছিল প্লাস্টিক ফাইবার। এই সমীক্ষা থেকে গবেষকদের অনুমান, তাহলে এক দিনে মানুষ যে পরিমাণ নুন গ্রহণ করছেন তার মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করছে ০.১১৭ মিলিগ্রাম প্লাস্টিক। যে কোনো সুস্থ মানুষ যদি প্রতিনিয়ত এই পরিমাণ মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে গ্রহণ করতে থাকেন, তাহলে অচিরেই ক্যান্সারের মতো আরো ভয়াবহ রোগ তার দেহে বাসা বাঁধতে পারে।

গবেষকরা আরো জানিয়েছেন, নামিদামি কোম্পানিগুলি টেবিল সল্ট তৈরি করার সময়েই তাতে ইচ্ছাকৃতভাবে প্লাস্টিক মেশায়। এই মাইক্রো প্লাস্টিক এর ব্যাসার্ধ প্রায় পাঁচ মিলিমিটার এর কাছাকাছি, যেগুলিকে সমুদ্র বর্জ্য থেকে পাওয়া যায়। এখন প্রশ্ন উঠেছে, এই ভেজাল থেকে বাঁচার উপায় কি? গবেষকেরা জানালেন, নুন ব্যবহার করার আগে যদি ছেঁকে নেওয়া হয় তাহলেই কিন্তু প্লাস্টিকের হাত থেকে পরিত্রান পাওয়া যেতে পারে।