লকডাউন এ বিমান পরিষেবা এক গুচ্ছ নিয়ম মেনে শুরু হবে

5746
লকডাউন এ বিমান পরিষেবা এক গুচ্ছ নিয়ম মেনে শুরু হবে

করোনা মোকাবিলার জন্য গোটা দেশ জুড়ে লকডাউন ঘোষণা করেছে কেন্দ্র সরকার। লকডাউনের মেয়াদ শেষ হলেই নিয়ন্ত্রণ বিজয় রেখেই বিমান পরিষেবা শুরু হবে, জানিয়েছে এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া। শুরুর দিকে মোট যাত্রী পরিবহনের ৩০ শতাংশ যাত্রী দিয়ে শুরু হবে বিমান চলাচল। পরিষেবা ধীরে ধীরে পরিস্থিতি বুঝে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরানো হবে। বিমান পরিষেবার মাধ্যমে যাতে ভাইরাস ছড়াতে না পারে, সেইজন্য পরিষেবা চালু করার আগে বিমানবন্দরে করোনা সংক্রান্ত সতর্কতার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই বিষয়ে এক গুচ্ছ নির্দেশিকা দিয়েছে এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া।

প্রথম দফায় দেশের প্রথম সারির বড় শহরগুলি এবং রাজ্যের রাজধানীগুলির মধ্যে বিমান চলাচল শুরু হবে। বিমানবন্দরে আসা এব‌ং যাওয়ার সময় সমস্ত যাত্রীর শারীরিক পরীক্ষা করা হবে। এরজন্য বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মী রাখতে হবে। প্রত্যেক যাত্রীকে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য জানানো বাধ্যতামূলক। সন্দেহভাজন করোনা আক্রান্তদের আলাদা করে রাখতে প্রতিটি বিমানবন্দরে একটি আইসোলেশন জোন তৈরি করতে হবে।

সামাজিক দূরত্ব বিধি মেনে বিমানবন্দরে যাত্রীদের বসার জায়গা করতে হবে। যাতে বিমানযাত্রী থেকে শুরু করে বিমানবন্দরের কর্মীরা কাজে যোগ দিতে পারেন, সেইজন্য বিমানবন্দরগুলি যে রাজ্যে, সেখানকার প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে শহর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত গণপরিবহন ব্যবস্থার নিশ্চিত করতে হবে। বিমানবন্দরের চেক ইন, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং বোর্ডিংয়ের জন্য একের বেশি দরজা রাখতে হবে। যাতে ভিড় বেশি না হয় সেদিকে সব সময়ে নজর রাখতে হবে। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য বিমানবন্দরের শৌচাগারে পর্যাপ্ত কর্মী রাখতে হবে।

বেশি সংক্রমণের ঘটনা যে সমস্ত জায়গায় ঘটেছে, সেই সব জায়গা থেকে আসা বিমানের যাত্রীদের মালপত্রের জন্য নির্দিষ্ট কনভেয়ার বেল্টের ব্যবস্থা করতে হবে। যে যে বিমানবন্দরে একাধিক টার্মিনাল রয়েছে, সেখানে প্রাথমিক ভাবে ছোট টার্মিনালটি ব্যবহার করা হবে। যদি বিমানবন্দরে কোনও করোনা রোগী পাওয়া যায়, তবে পেশাদার সংস্থা দিয়ে টার্মিনাল বিল্ডিং জীবাণুমুক্ত করতে হবে। গোটা বিমানবন্দর চত্বরে সামাজিক বিধি মানার জন্য প্রয়োজনীয় স্টিকার এবং বিজ্ঞাপন দিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

বিমানবন্দরের বিভিন্ন জায়গায় হাত ধোওয়ার এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার বন্দোবস্ত করতে হবে। শিশুদের খেলার জায়গায়, স্মোকিং জোনে যাতে ভিড় না হয়, সেইদিকে নজরে রাখতে হবে। বিমানবন্দরের ট্রলি, এক্স-রে মেশিন, রেলিং সমস্ত কিছু নির্দিষ্ট সময় অন্তর জীবাণুমুক্ত করতে হবে। বিমানবন্দরে কর্মরত কর্মীদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম দেওয়া হবে।