বাড়িতে পোষা প্রাণীটির থেকে আপনার যে ভয়াবহ রোগগুলি হতে পারে

136
বাড়িতে পোষা প্রাণীটির থেকে আপনার যে ভয়াবহ রোগগুলি হতে পারে

প্রতিটি পোষা প্রাণীর শরীরেই এমন কোনো রোগ থাকতে পারে যার দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে মানুষ। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, যেমন শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী এবং ক্যান্সারের রোগীরা এসব রোগে বেশি আক্রান্ত হন। কিছু কিছু প্রাণীর মাধ্যমে রোগ বেশি ছড়ায়, যেমন মুরগীর বাচ্চা, ইঁদুর জাতীয় প্রাণী যেমন গিনিপিগ, এবং সরীসৃপ যেমন গিরগিটি এবং সাপ। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, যেমন যারা কেমোথেরাপি নিচ্ছেন, এইচআইভির চিকিৎসা নিচ্ছেন বা ইমিউনোসাপ্রেসেন্ট ওষুধ খাচ্ছেন তাদের উচিৎ পোষা প্রাণী ঘরে আনার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া।

জেনে নিন আপনার প্রিয় পোষা প্রাণীটির শরীরে কী রোগের জীবাণু থাকতে পারে এবং কি রোগ ছড়াতে পারে……

ক্যাপনোসাইটোফাগা ক্যানিমোরসাস:- জীবাণুটি বিড়াল ও কুকুরের লালায় পাওয়া যায়। তা মানুষকে খুব একটা সংক্রমিত করে না, কিন্তু যখন করে, তখন তা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। উপসর্গের মাঝে রয়েছে ব্লাড পয়জনিং, শক, রেসপিরেটরি ডিসট্রেস এবং মেনিনজাইটিস। এই জীবাণু থেকে নিরাপদ থাকতে কুকুর-বিড়ালের হালকা আঁচড় বা কামড়ের পর জায়গাটি ভালো করে অ্যান্টিসেপটিক দিয়ে পরিষ্কার করে নিন।

বারটোনেলা হেনসেলি:- বিড়ালের আঁচড় বা কামড়ের মাধ্যমে এই ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এর মাধ্যমে হওয়া রোগটির নাম বারটোনেলোসিস। উপসর্গগুলো হলো লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া, ক্লান্তি এবং জ্বর। অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে সাধারণত এর চিকিৎসা করা হয়। এই জীবাণু থেকে নিরাপদ থাকতেও আঁচড় বা কামড়ের পর জায়গাটি ভালো করে অ্যান্টিসেপটিক দিয়ে পরিষ্কার করে নিন।

ক্যাম্পাইলোব্যাকটার জেজুনি:- এই জীবাণু থেকে খুব সহজেই ফুড পয়জনিং হতে পারে। সাধারণত তা কুকুর ও বিড়ালের মলমূত্রে থাকে। পোষা প্রাণীর সাথে খেলার পর ভালো করে হাত ধুয়ে নিন। খাবার আগে আবারো হাত ধুয়ে নিন।

ব্রুসেলা ক্যানিস:- কুকুরকে আক্রান্ত করে এই ব্যাকটেরিয়া। কুকুরের গর্ভপাত এবং মৃত কুকুরছানা জন্মের জন্য তা দায়ি। কুকুরের মুত্র এবং লালা থেকে তা ছড়ায়। এতে আক্রান্ত হলে মানুষের জ্বর, ক্লান্তি, ওজন কমা থেকে শুরু করে লিভার, স্প্লিন এবং লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়ার মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। কুকুরের সাথে খেলার পর ভালো করে হাত ধুয়ে নিন।

ক্ল্যামাইডোফিলা সিটাসি:- মূলত পোষা পাখি থেকে ছড়ায় বায়ুবাহিত এই জীবাণু। এর কারণে জ্বর, মাথাব্যথা এবং নিউমোনিয়া হতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা হেপাটাইটিস, আর্থ্রাইটিস এবং রেসপিরেটরি ফেইলিওরের কারণ হতে পারে। এই জীবাণু থেকে নিরাপদ থাকতে পাখির খাঁচা পরিষ্কার করুন দৈনিক এবং পরিষ্কারের সময়ে মুখে মাস্ক পরে নিন।

লেপ্টোস্পাইরা ইন্টারোগ্যানস:- এই ব্যাকটেরিয়া ত্বক থেকে খুব সহজেই রক্তে পৌঁছে যেতে পারে। এর কারণে হতে পারে জ্বর, বমি এবং ডায়ারিয়া। চিকিৎসা করা না হলে এর কারণে কিডনি ড্যামেজ, মেনিনজাইটিস, লিভার ফেইলিওর এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। এই জীবাণু থেকে মুক্ত থাকার জন্য বিড়াল, কুকুর এবং ইঁদুর জাতীয় প্রাণীর মুত্র থেকে সাবধান থাকুন। এমন জলে সাঁতার কাটবেন না যেখানে এসব প্রাণী নামতে পারে বা মুত্রত্যাগ করতে পারে।

টক্সোপ্লাজমা গন্ডি:- বিড়ালের মলমূত্র থেকে ছড়ায় এই জীবাণু। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী থাকলে তা বেশি সুবিধা করতে পারে না। তবে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে তা বেশ বিপজ্জনক। এতে আক্রান্ত হবার উপসর্গগুলো হলো চোখে ঝাপসা দেখা, পেশি ব্যথা এবং সাধারণ ঠান্ডা জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা যায়। এ জীবাণু থেকে নিরাপদ থাকতে আপনার বিড়ালকে ঘরে রাখুন, বাইরের বিড়ালকে ধরবেন না, বিড়াল যদি মলমুত্র করার জন্য লিটার বক্স ব্যবহার করে তা প্রতিদিন পরিষ্কার করুন এবং পরিষ্কারের সময়ে হাতে গ্লাভস পরে নিন।

লিম্ফোসাইটিক কোরিওমেনিনজাইটিস:- গিনিপিগ, হ্যামস্টার এবং ইঁদুর জাতীয় পোষা প্রাণীদের থেকে এই জীবাণু ছড়াতে পারে। চোখ, নাক, মুখ এবং কাটাছেঁড়া ত্বকের মাধ্যমে জীবাণুটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। এর কারণে হতে পারে জ্বর, বমি এবং ডায়ারিয়া। চিকিৎসা করা না হলে হৃৎপিণ্ড এবং মস্তিষ্কে ছড়াতে পারে জীবাণু। এ থেকে মস্তিষ্কে সাময়িক বা স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের জন্য তা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। পোষা প্রাণী, তাদের খাঁচা ও বিছানা ধরার পর ভালো করে হাত ধুয়ে নিন।

এ সব রোগ থেকে মুক্ত থাকার জন্য কিছু অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন……

পোষা প্রাণীকে ধরার পর প্রতিবার হাত ধুয়ে নিন

পোষা প্রাণীর মলমুত্র পরিষ্কারের সময়ে মাস্ক ও গ্লাভস পরে নিন

আঁচড় ও কামড় দ্রুত পরিষ্কার করে নিন

বিড়ালকে ঘরের ভেতরে রাখুন

কুকুরকে ময়লা ঘাঁটাঘাঁটি করতে দেবেন না

পোষা প্রাণীকে নিয়মিত পশু ডাক্তার দেখান ও ভ্যাকসিন দেবার ব্যবস্থা করুন