কখন বুঝবেন আপনার ঘুমের ওষুধের প্রয়োজন

228
কখন বুঝবেন আপনার ঘুমের ওষুধের প্রয়োজন

ঘুম নিয়ে সমস্যায় থাকেন অনেকেই। জীবনচর্চায় পরিবর্তন, খাদ্যভ্যাস নিয়ন্ত্রণ এমনকি ব্যায়ামের অভ্যাস করার পরেও তাদের ঘুমের সমস্যা দূর হয় না।  যখন তখন ঘুমের ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঘুমের ওষুধটাই দরকার হতে পারে। কী করে বুঝবেন আপনার ডাক্তার দেখিয়ে ঘুমের ওষুধ খাওয়া দরকার?

১) আপনি ঘুম থেকে উঠছেন ক্লান্তি নিয়ে:- আপনি রাত্রে ঘুমাচ্ছেন ৭-৮ ঘণ্টা, অথচ সকালে ঘুম থেকে উঠেই আপনার ক্লান্তি লাগছে। এর অর্থ ঘুমের মাঝে কোনো সমস্যা হচ্ছে আপনার।  এ সমস্যা দূর করতে ঘর একদম অন্ধকার করে ঘুমান, ঘর থেকে মোবাইল ফোন বা ট্যাব দূর করুন। বাইরের শব্দে যদি আপনার ঘুম কম হয় তাহলে দরজা জানালা বন্ধ করে ঘুমানোর ব্যবস্থা করুন।

২) আপনি দিনের বেলায় ঘুমিয়ে পড়ছেন:- রাত্রে ভালো ঘুম হয়েছে। এরপরেও আপনি ক্লাসের মাঝে বা মিটিংয়ের মাঝে ঘুমিয়ে পড়ছেন। কিন্তু তা হওয়ার কথা নয়।  দিনের বেলা হুটহাট ঘুমিয়ে পড়লে ডাক্তার দেখানো উচিত।

৩) বিকট শব্দে নাক ডাকা:- স্লিপ অ্যাপনিয়া নামের একটি সমস্যার লক্ষণ হতে পারে নাক ডাকা। আমরা যখন জেগে থাকি, তখন আমাদের কণ্ঠনালীর পেছনের অংশটি খোলা রাখে কিছু পেশী। ঘুমালে এসব পেশী শিথিল হয়ে যায় ও নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হয়। যাদের কণ্ঠনালী প্রায় পুরোটাই আটকে যায়, তাদের ক্ষেত্রে নাক ডাকার শব্দ হয়।এই শব্দ এতই তীব্র হয় যে আশেপাশে ঘুমানো মানুষের ঘুম ভেঙে যায়।  এক পর্যায়ে ফুসফুসে যথেষ্ট বাতাস পৌঁছায় না এবং ওই মানুষটির ঘুম ভেঙে যায়।  এতে ওই মানুষটির ঘুম ভালো হয় না। স্লিপ অ্যাপনিয়ার কারণে বাড়ে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, ও পুরুষের ইরেকটাইল ডিসফাংশনের ঝুঁকি। তবে চিকিৎসায় এ সমস্যাটির উপশম হতে পারে।

৪) ঘুম কম হওয়া:- রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না পাওয়াতে  দিনের বেলায় অনেক সমস্যা হতে পারে। অনেকেই চেষ্টা করেন ঘুমাতে পারেন না। এতে দেখা যায় সার্বক্ষনিক ক্লান্তি, স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা, বিষণ্ণতা ও ওজন কম-বেশি হওয়া। এ সমস্যাটি আসলে বেশ বড়, তা অনেকেই জানেন না। এমনকি মাঝে মাঝে কম ঘুমানো, মাঝে মাঝে বেশি ঘুমানোটাও একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। এ সমস্যা দূর করতে অক্ষম হলে চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

৫) আপনি সহজে ঘুমাতে পারেন না:- ঘুমাতে গিয়েছেন, অথচ আধা ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় ধরে শুধুই বিছানায় এপাশ ওপাশ করছেন, অথবা ঘুম ভেঙে গেলে আর ঘুমাতে পারছেন না- এসব সমস্যার অর্থ হতে পারে আপনার অনিদ্রা বা ইনসমনিয়া আছে।  দুশ্চিন্তার কারণে অনেকের মাঝে মাঝে ইনসমনিয়া দেখা দেয়। কিন্তু এই সমস্যা যদি দিনের পর দিন দেখা দিতে থাকে তাহলে আপনার ডাক্তার দেখানো জরুরী।

৬) আপনার রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম রয়েছে:- রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম অর্থাৎ চুপচাপ বসে থাকলেও তার পা নাড়ানোর প্রবণতা থাকে। এ সমস্যাটি সকালে কম থাকলেও বেলা বাড়তে থাকলে তীব্র হয়।  এ সমস্যাটির কারণে অনেকেরই ঘুমাতে বেগ পেতে হয়।  তাদের মনে হয়, পায়ের ওপর দিয়ে পোকা হেঁটে যাচ্ছে। এর চিকিৎসা নিলে ঘুমের সমস্যাও কমে আসে।

৭) আপনি ঘুমের মাঝে নড়াচড়া করেন:- বিশেষ করে স্বপ্নের মাঝে যা করছেন, ঘুমন্ত শরীরটাও যদি সেভাবে নড়াচড়া করতে থাকে তাহলে এ সমস্যাটি ডাক্তারকে বলা উচিত। অনেকে পরের দিন এ বিষয়টা মনেও করতে পারেন না। তারা ঘুমের মাঝে হাত পা ছোঁড়েন, চিৎকার করেন। এর পেছনে বড় কোনো শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে।ওপরের এ সমস্যাগুলোর যে কোনোটি থাকলেই আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। ডাক্তার আপনাকে ঘুমের ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন। অবশ্যই নিজ উদ্যোগে ঘুমের ওষুধ খাবেন না। তথ্য সাহায্য-রিডার্স ডাইজেস্ট