ধুমপান ছাড়বেন? দেখে নিন শরীরে এই ক্ষতি গুলি ঘটে পারে..

193
ধুমপান ছাড়বেন? দেখে নিন শরীরে এই ক্ষতি গুলি ঘটে পারে..

ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর তা সবাই জানে৷ কিন্তু এই অভ্যাসটা ছেড়ে দেওয়া এত সহজ নয়৷ অনেকের মনে ভয়, ধূমপান ছেড়ে দিলে যদি ওজন বেড়ে যায়! বাস্তবিকই আতঙ্কটা অযৌক্তিক নয়৷ ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার পর ৮০ শতাংশ মানুষের ওজন বেড়ে যায় গড়ে ৭ কিলো৷ এটা অনেক বেশি এবং হতাশাব্যাঞ্জক৷

সিগারেটের বদলে চকলেট ও আইসক্রিমের দিকে হাত বাড়ায় অনেক প্রাক্তন ধূমপায়ী, এমনটি মনে করা হয়৷ আসলে কিন্তু বিষয়টি সব সময় তা নয়৷ দেখা গেছে, প্রাক্তন ধূমপায়ীদের মধ্যে যাঁদের খাদ্যাভ্যাসে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি বা মিষ্টিপ্রীতি বাড়েনি, তাঁদের অনেকেও মেদ বৃদ্ধির হাত থেকে রক্ষা পাননি৷

শুধু ক্যালরি দায়ী নয়- এক্ষেত্রে শুধু ক্যালরি দায়ী নয়৷ বলেন সুইজারল্যান্ডের একদল গবেষক৷ তাঁদের মতে, ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার ফলে আন্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন ঘটে৷ এ কারণে মানুষের ওজন বৃদ্ধি পায়৷ জুরিখ ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এ ব্যাপারে একটি সমীক্ষা চালিয়েছেন৷ যাতে অংশগ্রহণ করেন ধূমপায়ী, অধূমপায়ী ও যাঁরা সদ্য ধূমপান ছেড়েছেন তাঁরা৷

নয় সপ্তাহ ধরে অংশগ্রহণকারীদের মল, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়৷ এতে দেখা গেছে, ধূমপায়ী ও অধূমপায়ীদের অন্ত্রাশয়ে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি৷ কিন্তু যাঁরা সদ্য ধূমপান ছেড়েছেন তাঁদের অন্ত্রে হঠাৎ কিছু ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার ঘটে৷ যেগুলির আধিক্য স্থূলাকৃতির মানুষের অন্ত্রে লক্ষ্য করা যায়৷ এইসব ব্যাকটেরিয়ার বৈজ্ঞানিক নাম প্রোটেওব্যাকটেরিয়া ও ব্যাকটেরোইডেটেস৷

দায়ী অন্ত্রের কিছু ব্যাকটেরিয়া- এই সব ব্যাকটেরিয়ার কারণে আগের চেয়ে বেশি খাওয়া দাওয়া না করলেও ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার পর অনেক মানুষ মোটা হয়ে যান, জানান ডয়চে ভেলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে সমীক্ষার প্রধান গেয়ারহার্ড রগার৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘আমাদের পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই নবাগত ব্যাকটেরিয়ারা অন্তত ছয় মাস ধরে অন্ত্রে ঘাঁটি গেড়ে বসে৷ এই অবস্থাটা কতদিন থাকে এবং ব্যাকটেরিয়াগুলি আবার চলে যায় কিনা, তা অবশ্য আমরা এখনও জানতে পারিনি৷”

অন্ত্রের কিছু ব্যাকটেরিয়া খাবার থেকে দক্ষতার সাথে শক্তি ব্যবহার করতে এবং মেদকোষে জমাতে পারে৷ এর ফলে মানুষের পেট ও নিতম্ব ভারি হয়ে যায়৷

লস অ্যাঞ্জেলেস-এর কেডার্স সিনাই মেডিকেল সেন্টারের গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন যে, কোনো মানুষের মোটা হওয়ার ধাঁচ আছে কিনা, তা অনেকটা নির্ভর করে আন্ত্রিক ব্যাকটেরিয়ার ওপর৷ স্থূলাকায় মানুষের বেলায় নির্দিষ্ট কিছু ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রে তাদের কুকর্ম চালায়৷ গবেষকরা এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন, এইসব করিতকর্মা ও মেদবর্ধক ব্যাকটেরিয়াকে দূর করা যায় কিনা৷