জানুন বিষণ্ণতা কাটিয়ে জীবনকে আনন্দময় করে তুলবেন কি করে

111
বিষণ্ণতা কাটিয়ে জীবনকে আনন্দময় করে তুলুন বিস্তারিত

এক গবেষণায় দেখা গেছে প্রায় ১৫ কোটি মানুষের মাঝে ৬৫ শতাংশ নারীরা বিভিন্ন কারণে বিষাদময় জীবনযাপন করে থাকেন। তারা জীবনের প্রতিটা মুহূর্তে বিষণ্ণতায় ভোগেন। এই বিষণ্ণতা তাদের জীবনের স্বাদ গ্রহণ থেকে গুটিয়ে ফেলে। তাদের জীবনের ঘটে যাওয়া নানা কারণে তারা প্রায় সময় বিষণ্ণতায় ভোগেন। কোনো কাজেই সঠিকভাবে মন বসাতে পারেন না। এমন পর্যায়ে যারা রয়েছেন তারা এমন কয়েকটি উপায় জেনে নিন যেগুলোর ফলে আপনার বিষাদময় জীবন হয়ে উঠবে আনন্দে ভরা………

১) ভিটামিন ডি গ্রহণ করুন:- সূর্যের আলো থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। এই ভিটামিন ডি মস্তিষ্কে মেরোটোনিন এবং অক্সিটোসিনের মত অ্যান্টিডিপ্রেজেন্ট হরমোন তৈরি করে যেগুলো মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। একদল তরুণ গবেষকদের মতে খুব সকালের মিষ্টি রোদ থেকে শোষিত ভিটামিন ডি এই হরমোন তৈরিতে বেশ সহায়ক। এসময়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি থাকে না। এ কারণে বিষাদময় জীবনের অবসানে নিয়মিত ভিটামিন ডি গ্রহণ করুন।

২) কম নোংরা থাকুন:- শরীর যত বেশি নোংরা হবে তত বেশি মেজাজ খারাপ থাকবে। এছাড়া নোংরা থাকলে হরমোন শোষিত হয় বেশি। ফলে বিরক্তির উদ্রেক হতে পারে যখন তখন। এ কারণে যতটা সম্ভব কম নোংরা থাকার চেষ্টা করুন। যত কম নোংরা থাকবেন আপনার জীবনে বিষণ্ণতা তত কম আসবে বিপরীতে জীবনটা আনন্দময় হওয়ার সম্ভাবনাই অনেক বেশি।

৩) আলোর মধ্যে থাকার চেষ্টা করুন:- যতটা সম্ভব আলোর মাঝে থাকার চেষ্টা করুন। কেননা অন্ধকারে থাকলে মানুষ মানসিকভাবে অসুস্থ হতে বাধ্য। অন্ধকারে মস্তিষ্ক অনেক বেশি সচল হয় বেশি। ফলে অনেক ধরনের চিন্তাভাবনা আসে মনে। বিভিন্ন খারাপ স্মৃতি মনে পড়ে যেতে পারে। এ কারণেও বিষণ্ণতা আপনাকে ঘিরে ফেলতে পারে। এজন্য সব সময় আলোর মাঝে থাকুন। তাছাড়া মানুষের দেহে শক্তি যোগাতে সাহায্য করে।

৪) নাচুন:- মন ভালো করার একটি সহজ উপায় হল নাচ। আপনি যদি রিদমিক কোনো গানের সাথে নাচেন তখন দেখবেন অনেকটাই ভালো লাগছে আপনার। প্রতিটি মানুষের শরীরে এক ধরনের তাল রয়েছে। মিউজিকের তালের সাথে যদি সেটি মিলে যায় তাহলে মনের অজান্তেই নাচতে ইচ্ছা করে। আপনি যদি নাচতে নাও পারেন তারপরও কোনো সমস্যা নেই। আপনি এখানে নিশ্চয়ই কোনো কম্পিটিশনে নাচছেন না, নাচছেন মনের ক্ষুধায়। ফলে তালজ্ঞান না থাকলেও চলবে। শুধু মনের বিষণ্ণতা কাটিয়ে উঠতে পারলেই হল।

৫) গান শুনুন:- আপনি যখন একা একা থাকবেন তখন গান শুনুন। বিভিন্ন গায়ক গায়িকার গান শুনবেন। তবে কোনো কষ্টের গান একেবারেই শুনবেন না। সব মন ভালো করা গান শুনুন। আবার মন চাইলে আপনি গলা ছেড়ে গান গাইতেও পারেন। গলা ছেড়ে গান গাইলে আপনার জীবনের বিষণ্ণতা অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে পারবেন। জীবন হয়ে উঠবে আনন্দময়।

৬) আভাকাডো খান:- গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন অর্ধেকটা অংশ আভাকাডো খেলে মানসিক বিষণ্ণতা ২৫ শতাংশের মত দূর হয়ে যায়। কেননা এতে মনোনাউনসেচার ফ্যাট জাতীয় কিছু পুষ্টিকর উপাদান থাকে যা মস্তিষ্কে বিষণ্ণতা কাটিয়ে উঠতে সহায়ক কিছু হরমোন তৈরি করে। জীবন হয়ে উঠে বৈচিত্র্যময়।

৭) ডায়েটে কিছু খাবার যুক্ত:- আলু শরীরে ট্রাইটোফনের মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করে যেটি অ্যান্টিডিপ্রেজেন্ট হরমোন সেরোটোনিন তৈরি করে। এই হরমোন বিষণ্ণতা কাটাতে সাহায্য করে। ফলে আপনার ডায়েটের তালিকায় আলু জাতীয় খাবারকে যুক্ত করুন। এতে জীবন থেকে বিষণ্ণতা চলে যাবে বিনিময়ে জীবন হয়ে উঠবে আনন্দময়।

৮) ক্লাবে যোগদান:- জীবনের বিষণ্ণতা দূর করতে ক্লাবে যোগ দিতে পারেন। ক্লাবে যোগ দিলে সামাজিক যোগাযোগটি দৃঢ় হবে। ফলে বিষণ্ণতার পরিবর্তে আনন্দের ঘনচ্ছটা জীবনে আসতে পারে।

৯) বডি ম্যাসেজ করুন:- বডি ম্যাসেজ মস্তিষ্কে শিরাগুলোকে অনেক বেশি সচল করে তোলে। প্রতিদিন ২০ মিনিট বডি ম্যাসেজ করলে মানসিক ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। শরীর সুস্থ থাকে, মানসিক বিষণতা দূর হয়। জীবনে প্রশান্তি আসে।

১০) নতুন সময়সূচি অনুসরণ করুন:- বিষণ্ণতার কারণে ঘুমের তারতম্য হতেই পারে। নতুনভাবে একটি সময়সূচী তৈরি করুন। খুব সকালে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন এবং রাতে ১১ টার মধ্যে বিছানায় যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে করে জীবনে বিষণ্ণতার কাটিয়ে প্রশান্তি চলে আসবে।